খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫
ড্যারেন কিলি ২০২৫ সালকে বিদায় জানালেন তাঁর নতুন সিঙ্গেল ‘ফেড’ প্রকাশের মাধ্যমে। এই গানটি তাঁর ক্রমেই বিস্তৃত সংগীতভাণ্ডারে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে যুক্ত হলো। বর্তমানে গানটি শ্রোতাদের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে এবং আবেগনির্ভর গল্প বলার ক্ষেত্রে কিলির সুনামকে আরও দৃঢ় করেছে। প্রতিটি নতুন প্রকাশনার মধ্য দিয়ে তিনি নিজেকে এমন একজন শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছেন, যিনি গানের কেন্দ্রে অনুভূতি, স্মৃতি ও বর্ণনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেন।
নস্টালজিক সুরের ওপর নির্মিত ‘ফেড’ গানটি কিলির আবেগঘন ও শক্তিশালী কণ্ঠে প্রাণ পেয়েছে। মধ্যগতির এই গানটি এমন এক বর্ণনাকারীর দৃষ্টিকোণ থেকে বলা, যিনি তাঁর সাবেক সঙ্গীর সঙ্গে কাটানো স্মৃতিগুলো ফিরে দেখছেন। গানের কথায় উঠে এসেছে ঘনিষ্ঠ মুহূর্ত, সময়ের নীরব অগ্রগতি এবং ধীরে ধীরে একটি সম্পর্কের শেষ হয়ে যাওয়ার বেদনাদায়ক উপলব্ধি। বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে সেই শেষ মুহূর্তের স্মৃতি, যখন দুজন মানুষ আলাদা হয়ে যায় এবং বুঝতে পারে যে জীবনের একটি অর্থবহ অধ্যায় পেছনে পড়ে রইল। গানটির প্রযোজনা করেছেন জ্যাক রাইলি এবং গীতিকার হিসেবে ড্যারেন কিলির সঙ্গে কাজ করেছেন নিক অ্যাটকিনসন ও হুগো এম হার্ডি।
গানটির ভাবনা সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে কিলি বলেন, ‘ফেড’ মূলত এমন একটি সুন্দর মুহূর্ত ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে দেখার অনুভূতি নিয়ে, যখন মানুষ এখনো আঁকড়ে ধরে রাখতে চায়। তাঁর ভাষায়, এটি সেই উপলব্ধি যে জীবনের কোনো এক সময়ে আপনি আরেকজন মানুষের জীবনে স্পর্শ রেখে গেছেন এবং একসঙ্গে একটি ভবিষ্যৎ কল্পনা করেছিলেন, যা শেষ পর্যন্ত ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। এই আত্মবিশ্লেষণধর্মী ও সৎ অনুভূতি কিলির সাম্প্রতিক কাজগুলোর সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে দুর্বলতা, স্মৃতি এবং মানবিক সংযোগ বারবার উঠে এসেছে।
‘ফেড’-এর পাশাপাশি ড্যারেন কিলি সম্প্রতি আরও একটি আবেগঘন গান ‘বাউন্ড’ প্রকাশ করেছেন। এর আগে তাঁর গান ‘ওয়েট’ শ্রোতাদের মধ্যে বিশেষভাবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ‘ওয়েট’ ইতোমধ্যে ৫.৫ মিলিয়ন স্ট্রিম অর্জন করেছে এবং টিকটকে উল্লেখযোগ্য সাড়া ফেলেছে। অনেক শ্রোতা সেখানে গানটির সঙ্গে নিজেদের ব্যক্তিগত অনুভূতি ও অভিজ্ঞতার মিল খুঁজে পেয়েছেন। এই সাড়া কিলির সৎ ও হৃদয়স্পর্শী গীতলেখার মাধ্যমে শ্রোতাদের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলার সক্ষমতাকেই স্পষ্ট করে।
আয়ারল্যান্ডের কাউন্টি কর্ক থেকে উঠে আসা ড্যারেন কিলির ফোক-প্রভাবিত সংগীতধারা গড়ে উঠেছে ঐতিহ্যবাহী আইরিশ সংগীতের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সংযোগের মধ্য দিয়ে। খুব অল্প বয়সেই তাঁর সংগীতচর্চা শুরু হয়। পাঁচ বছর বয়সে তিনি টিন হুইসেল শেখেন এবং আট বছর বয়সে ফিডল বাজানো শুরু করেন। পরে নিজ উদ্যোগে গিটার শেখেন। দ্য লুমিনিয়ার্স, মমফোর্ড অ্যান্ড সন্স ও নোয়া কাহানের মতো আধুনিক শিল্পীদের প্রভাব তাঁর সংগীতে ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিকতার মেলবন্ধন ঘটিয়েছে। ২০১৯ সালে গান গাওয়া শুরু করার পর খুব দ্রুতই তাঁর কাঁচা কিন্তু আবেগপূর্ণ কণ্ঠশৈলী শ্রোতাদের দৃষ্টি কাড়ে।
আইরিশ ঐতিহ্যবাহী সংগীতে জাতীয় পর্যায়ে একাধিক সম্মান অর্জনের পর ২০২২ সালে কিলি নিউইয়র্ক সিটিতে পাড়ি জমান নিজের সংগীতধারা আরও পরিশীলিত করতে। পরে তিনি ন্যাশভিলে যান, যা বিশ্বখ্যাত একটি গান লেখার কেন্দ্র। ফ্রি ফ্লাইট রেকর্ডসের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে তিনি প্রকাশ করেন তাঁর প্রথম ইপি ‘লস্ট’। সাতটি গানের এই প্রকল্পে আত্মসন্দেহ, আবেগগত সংগ্রাম ও ব্যক্তিগত বিকাশের গল্প উঠে এসেছে। এতে থাকা ‘মম অ্যান্ড ড্যাড’ গানটি আইরিশ সিঙ্গেলস চার্টের শীর্ষ ৪০-এ জায়গা করে নেয় এবং আইরিশ হোমগ্রোন চার্টে শীর্ষ পাঁচে ওঠে। পাশাপাশি ‘সানরাইজ’ গানটি চার্টের এক নম্বর অবস্থানে পৌঁছায়।
পরবর্তী ইপি ‘ফ্রম দ্য ডার্ক’-এ ড্যারেন কিলি বড় হওয়া ও সামনে এগিয়ে যাওয়ার বাস্তবতা নিয়ে আরও গভীরভাবে কাজ করেছেন। নতুন গান ‘ফেড’ প্রকাশের মাধ্যমে তিনি তাঁর এই চলমান সৃজনশীল যাত্রাকে আরও সমৃদ্ধ করলেন এবং ২০২৫ সালকে একটি অর্থবহ সংগীতময় সমাপ্তি দিলেন।