সহায়তা নয়, বরং আশ্বাস ঘিরে দুশ্চিন্তা ও অনিশ্চয়তায় দিন পার করছে দেশের বেসরকারি খাত। ‘ইচ্ছাকৃত খেলাপি নয়’—এমন ঋণগ্রহীতাদের পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিতে গিয়ে যেন উল্টো চাপ সৃষ্টি করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিচার-বিশ্লেষণহীন পদক্ষেপ ও সিদ্ধান্তহীনতা মিলিয়ে যে নীতিকে সহায়তা হিসেবে দেখা হয়েছিল, এখন তা অনেক উদ্যোক্তার জন্য হয়ে উঠেছে গলার কাঁটা।
সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, চলতি বছরের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংক ৫০ কোটি টাকার ঋণ বা তদূর্ধ্ব অর্থের পর্যালোচনার জন্য একটি পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করে। উদ্দেশ্য ছিল—প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের জন্য নীতি সহায়তা নিশ্চিত করা। কিন্তু শুরু থেকেই কমিটির এখতিয়ার ও স্বচ্ছতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন বিশ্লেষকরা। পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও জমা পড়া সাড়ে চার শতাধিক আবেদন থেকে একটি আবেদনও চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হয়নি।
ফলে যাদের সহায়তা দেওয়ার কথা ছিল, তাঁরাই পড়েছেন সবচেয়ে বেশি বিপাকে। থমকে গেছে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম, বন্ধ হয়ে গেছে উৎপাদন, চাকরি হারিয়েছেন অনেকে। বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু এই প্রক্রিয়ার ধীরগতিতে হতাশা জানিয়ে বলেন, ‘মাসের পর মাস কিংবা বছরের পর বছর সবাই চাতকের মতো চেয়ে থাকবে—এটা তো হতে পারে না। একটি কমিটিতে যদি গতি না হয়, তাহলে আরও তিন-চারটি কমিটি গঠন করা উচিত। এখন যে হারে চলছে, তাতে পাঁচ-ছয় বছরেও নিষ্পত্তি হবে না। এর মধ্যেই অনেকে খেলাপিতে পরিণত হবেন, দায়বদ্ধতা বাড়বে।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান অবশ্য জানিয়েছেন, ‘যাদের একাধিক ব্যাংকের সঙ্গে লেনদেন, সেখানে সব পক্ষের সম্মতিতে সিদ্ধান্তে আসতে সময় লেগেছে। তবে যেসব ঋণগ্রহীতার এক বা দুই ব্যাংকের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে, তাঁদের আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির পথে রয়েছে।’ তাঁর দাবি, কাজের গতি আগের তুলনায় বেড়েছে।
তবে বাস্তবচিত্র বলছে ভিন্ন কথা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত না হওয়ায় নতুন করে সহায়তা দিতে পারছে না ব্যাংকগুলো। ফলে বন্ধ হয়ে আছে অনেক কারখানা, ছাঁটাই হচ্ছেন শ্রমিকরা, স্থবির হয়ে পড়েছে নতুন বিনিয়োগ। বিশ্লেষকদের মতে, দায়িত্বজ্ঞানহীন ও বাস্তবতা বিবর্জিত নীতি প্রয়োগ করলে তা সহায়তার বদলে সংকটই বাড়াবে। এখনই যদি দ্রুত ও কার্যকর সিদ্ধান্ত না আসে, তাহলে এই প্রশাসনিক জটিলতা ভবিষ্যতে ব্যক্তি খাত নয়, গোটা অর্থনীতির জন্যই বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।
খবরওয়ালা/এন



