নিহত ফজলুল রহিম কাজল সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার কাকীয়াজড় গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মৃত জবান আলীর ছেলে। প্রায় দুই বছর আগে সেনাবাহিনী থেকে অবসরে যাওয়ার পর নিজ এলাকায় একটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে হিসাবরক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ অক্টোবর সকালে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের টাকা তুলতে ব্যাংকের উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হন কাজল। এরপর থেকে তাঁর আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। তিনি ব্যাংকে পৌঁছেছিলেন কি না কিংবা প্রকল্পের টাকা তুলেছিলেন কি না, সে বিষয়ে পরিবারের সদস্যরা নিশ্চিত নন। দুই দিন ধরে তাঁর কোনো সন্ধান না পাওয়ার পর শুক্রবার তাঁর মরদেহ উদ্ধারের খবর আসে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে কংস নদের পাড়ে গরু চরাতে গিয়ে এক ব্যক্তি দুর্গন্ধ পান। পরে দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে পাশের জঙ্গলে একটি গাছের মগডালের কাছে হেলান দেওয়া অবস্থায় মরদেহটি দেখতে পান তিনি। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন সেখানে জড়ো হন। পরে খবর পেয়ে মোহনগঞ্জ থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
মরদেহের অবস্থান এবং গলায় রশি পেঁচানো থাকার বিষয়টি নিয়ে নিহতের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। তাঁদের ধারণা, কাজলকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে কোনো চূড়ান্ত প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।
নিহতের বড় ভাই ফজলুল করিম বুলবুল ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, “ব্যাংক থেকে টাকা তোলার উদ্দেশ্যে ৭ অক্টোবর সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফেরেনি কাজল। টাকা ব্যাংক থেকে তোলা হয়েছিল কি না, তা আমরা জানি না। এটি কোনো আত্মহত্যা হতে পারে না। লাশটি গাছের ডালে বসিয়ে রাখা অবস্থায় ছিল, ঝুলন্ত ছিল না।”
তিনি আরও বলেন, পরিবারের সদস্যরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চান। কীভাবে কাজলের মৃত্যু হলো, কেন তাঁর মরদেহ গাছের ডালে পাওয়া গেল এবং ঘটনার পেছনে কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খুঁজে বের করে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর ইসলাম হারুন জানান, মরদেহে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। নিহতের পরিধেয় বস্ত্রও স্বাভাবিক অবস্থায় ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ওসি জানান, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণের জন্য মরদেহটি নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। পাশাপাশি তদন্তের মাধ্যমে ঘটনাটি হত্যা, আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে ঘটেছে, তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।
ব্যাংকে টাকা তুলতে যাওয়ার পর নিখোঁজ হওয়া এবং দুই দিন পর নদীর পাড়ের জঙ্গল থেকে গাছের ডালে হেলান দেওয়া অবস্থায় মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে, কাজল কীভাবে ওই স্থানে পৌঁছালেন এবং তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
তবে নিহতের পরিবারের অভিযোগ এবং মরদেহের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ—কোনোটির ভিত্তিতেই এখনই মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই এ রহস্যের জট খুলতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।


