গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক পার হওয়ার সময় বাসচাপায় স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার মাঝিগাতী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত দুজন হলেন ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার দেওলা গ্রামের সোলায়মান মোল্লা (৭০) ও তাঁর স্ত্রী শাহিদা বেগম (৬০)।
কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহফুজুর রহমান এবং ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার এক সার্জেন্ট দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সোলায়মান মোল্লা ও তাঁর স্ত্রী ঢাকাগামী একটি বাসে করে এসে মাঝিগাতী বাসস্ট্যান্ডে নামেন। বাস থেকে নামার পর তাঁরা মহাসড়কের অপর পাশে যাওয়ার জন্য রাস্তা পার হচ্ছিলেন। এ সময় দ্রুতগতির একটি বাস তাঁদের চাপা দিয়ে চলে যায়।
বাসটির ধাক্কায় দুজনই গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই তাঁদের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে কিছু সময়ের জন্য স্থানীয়দের ভিড় জমে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং নিহতদের মরদেহ উদ্ধারের ব্যবস্থা করে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ব্যস্ত ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মাঝিগাতী এলাকায় বাসস্ট্যান্ড থাকায় সেখানে যাত্রী ওঠানামা করে। বাস থেকে নেমে সড়কের বিপরীত পাশে যেতে গিয়ে পথচারীদের মহাসড়ক পার হতে হয়। এ ধরনের ব্যস্ত সড়কে চলন্ত যানবাহনের কারণে পারাপারের সময় দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। প্রক্রিয়া শেষ হলে নিহত সোলায়মান মোল্লা ও শাহিদা বেগমের মরদেহ তাঁদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
একই ঘটনায় স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে তাঁদের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়ভাবে দুর্ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে মহাসড়কের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় যাত্রীদের নিরাপদে রাস্তা পারাপার এবং যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে।
দুর্ঘটনার কারণ এবং যে বাসটি তাঁদের চাপা দিয়ে চলে গেছে, সেটি শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে কি না—এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। তবে ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।


