মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি, গোপাল রাজবংশী
মানিকগঞ্জে বিভিন্ন ফ্লেভারের ৭৮০ গ্রাম শিশা, হুক্কা, শিশা সেবনের কয়লা ও ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ মো. বুরহান আলী (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার গড়পাড়া ইউনিয়নের গড়পাড়া গ্রামে তাঁর নিজ বসতঘরে অভিযান চালিয়ে এসব মাদকদ্রব্য ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মানিকগঞ্জ সদর থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। পরে তাঁকে আদালতে সোপর্দ করা হয় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয়, মানিকগঞ্জের উপপরিচালক হুমায়ুন কবির খন্দকারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অধিদপ্তরের উপপরিদর্শক মো. জামাল হোসেনের নেতৃত্বে একটি দল অভিযানে অংশ নেয়।
অভিযানসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গড়পাড়া গ্রামের নিজ দখলীয় বসতঘরে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় বিভিন্ন ফ্লেভারের শিশাসহ সেবনের সরঞ্জাম এবং গাঁজা পাওয়া যায়। উদ্ধার করা শিশার পরিমাণ ৭৮০ গ্রাম, যার সঙ্গে ০.৫ শতাংশ নিকোটিন মিশ্রিত ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া একটি হুক্কা, শিশা সেবনের উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত ৫০০ গ্রাম কয়লা এবং ১০০ গ্রাম গাঁজা জব্দ করা হয়।
অভিযান শেষে এসব সামগ্রী জব্দ করে বুরহান আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর পরিচয় সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তিনি মৃত হামিদ আলীর ছেলে। তাঁর বাড়ি মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার গড়পাড়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের গড়পাড়া গ্রামে।
শিশা সেবনের ক্ষেত্রে হুক্কা ও বিশেষ ধরনের তামাকজাত মিশ্রণ ব্যবহার করা হয়। বিভিন্ন ফ্লেভারের শিশার প্রতি তরুণদের একাংশের আগ্রহ থাকলেও এর স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। শিশায় নিকোটিন থাকলে তা আসক্তি তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে হুক্কার মাধ্যমে ধোঁয়া গ্রহণের ফলে শরীরে ক্ষতিকর রাসায়নিক প্রবেশের আশঙ্কা থাকে। তবে উদ্ধার করা শিশার সুনির্দিষ্ট উপাদান ও প্রকৃতি সম্পর্কে নিশ্চিত হতে প্রয়োজনীয় পরীক্ষার ফল গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ বেচাকেনা নিয়ন্ত্রণে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ কার্যকর রয়েছে। এ আইনের আওতায় মাদকদ্রব্যের ধরন, অপরাধের প্রকৃতি এবং সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতি বিবেচনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এ ধরনের অভিযানে মাদকদ্রব্য উদ্ধারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর দায়িত্বের অংশ।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, মাদকের অপব্যবহার ও অবৈধ কারবারের বিরুদ্ধে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি, পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকা এবং তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখার উদ্যোগও গুরুত্বপূর্ণ।
সংশ্লিষ্টদের মতে, মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং সন্দেহজনক মাদক কারবারের বিষয়ে দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষকে তথ্য দেওয়ার মাধ্যমে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে সাধারণ মানুষও ভূমিকা রাখতে পারেন।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে মাদকমুক্ত জীবন গড়তে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সচেতনতামূলক বার্তা: জীবনকে ভালোবাসুন, মাদক থেকে দূরে থাকুন।


