মানিকগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
জাতীয় সম্পদ ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করা এবং এর টেকসই উৎপাদন বজায় রাখতে মানিকগঞ্জের পদ্মা ও যমুনা নদীতে যৌথ অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা প্রশাসন। অভিযানে পাঁচ লাখ মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল ও ২০ কেজি মা ইলিশ জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা জালের আনুমানিক বাজারমূল্য এক কোটি ৭৫ লাখ টাকা।
গত মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে জব্দ করা অবৈধ কারেন্ট জাল পরে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। অন্যদিকে, উদ্ধার করা ২০ কেজি মা ইলিশ স্থানীয় দুস্থ ও অসহায় মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ইলিশের প্রজনন ও বংশবিস্তার সুরক্ষায় অবৈধভাবে মাছ ধরার সরঞ্জামের ব্যবহার বন্ধ করা এবং নদীতে মৎস্যসম্পদের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখার লক্ষ্যেই এ অভিযান চালানো হয়। কারেন্ট জালের ব্যবহার মাছের জন্য বড় ধরনের হুমকি। এ ধরনের জালে ইলিশের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রজাতির ছোট মাছও আটকা পড়ে, যা নদীর জীববৈচিত্র্য ও মৎস্যসম্পদের দীর্ঘমেয়াদি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নাজমুন আরা সুলতানা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কামরুল হাসান, শিবালয়ের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিষা রানী কর্মকার, সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদ আলী শাহরিয়ার এবং জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শেখ মনিরুল ইসলাম মনির।
এ ছাড়া শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম, পাটুরিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ওসি শাহাদাৎ হোসেনসহ বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, থানা পুলিশ, নৌ-পুলিশ এবং জেলা ও উপজেলা মৎস্য দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অভিযানে অংশ নেন।
ইলিশ বাংলাদেশের অর্থনীতি, খাদ্যসংস্কৃতি ও মৎস্যসম্পদের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশের সুরক্ষা নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন ও প্রাপ্যতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়। এ কারণে নির্ধারিত সময়ে ইলিশ ধরা বন্ধ রাখা, অবৈধ জাল ব্যবহার থেকে বিরত থাকা এবং মৎস্য সংরক্ষণ আইন মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মানিকগঞ্জের পদ্মা ও যমুনা নদীতে পরিচালিত এ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দের ঘটনা নদীতে অবৈধ মাছ ধরার সরঞ্জাম ব্যবহারের বিরুদ্ধে প্রশাসনের তৎপরতার বিষয়টি তুলে ধরেছে। ইলিশের প্রজনন ও নদীর মৎস্যসম্পদ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি জেলেদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোও গুরুত্বপূর্ণ।


