মিরপুর টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে হেরে সিরিজের শুরুতে ধাক্কা খেয়েছে বাংলাদেশ। এই হারের পরপরই দলের ব্যাটিং পারফরম্যান্স ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিয়ে নতুন করে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। তবে সব নেতিবাচক আলোচনা পাশে সরিয়ে সিলেটে সিরিজের শেষ টেস্টে ঘুরে দাঁড়াতে চান জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন। তাঁর মতে, একটি ম্যাচের ব্যর্থতা দিয়ে একটি দলের সার্বিক সামর্থ্য বিচার করা একেবারেই যুক্তিযুক্ত নয়।
ঢাকা টেস্টের প্রথম ইনিংসে ২৭২ রান তুলে ২৭ রানের ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এক লিড পেয়েছিল স্বাগতিক বাংলাদেশ। ওপেনার সাদমান ইসলামের ১০৫ রানের লড়াকু ইনিংসটি দলকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করিয়েছিল। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ অলআউট হয়ে যায় মাত্র ১৪২ রানে। স্পিনার নাঈম হাসানের দায়িত্বশীল ৫২ রান না থাকলে পরিস্থিতি আরও করুণ হতে পারত। ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে বল হাতে তোপ দাগান রস্টন চেইস ও জোমেল ওয়ারিক্যান; চেইস নেন ৫টি এবং ওয়ারিক্যান নেন ৪টি উইকেট। ১৭০ রানের জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে ৩৫.১ ওভারেই জয় নিশ্চিত করে সফরকারীরা।
মিরপুরের স্পিনবান্ধব উইকেটের আচরণ মূল্যায়নে বাংলাদেশ দলের ঘাটতি ছিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। ওয়েস্ট ইন্ডিজ যেখানে বাড়তি স্পিনার নিয়ে দল সাজিয়েছিল, বাংলাদেশ সেখানে কন্ডিশন অনুযায়ী কৌশলে পরিবর্তন আনতে ব্যর্থ হয়। দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও স্বীকার করেছেন যে, দ্বিতীয় ইনিংসে উইকেটে টিকে থাকার মতো প্রয়োজনীয় মানসিকতা দেখাতে পারেননি ব্যাটাররা। এই হারের কারণে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় এক ধাপ পিছিয়ে পঞ্চম স্থানে নেমে গেছে বাংলাদেশ। ফাইনালের দৌড়ে টিকে থাকতে হলে তাই সিলেট টেস্টে জয়ের কোনো বিকল্প নেই।
তবে এসব সমালোচনা ও হতাশা ড্রেসিংরুমে ছড়িয়ে পড়ুক, তা চান না হাবিবুল বাশার। অতীত সাফল্যের উদাহরণ টেনে খেলোয়াড়দের প্রতি আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা অবশ্যই দ্বিতীয় টেস্ট জিতে সিরিজে ফিরতে চাই। আমাদের একটি বড় সমস্যা হলো, আমরা খুব সহজেই খারাপ দিকগুলোকে বড় করে দেখি, অথচ দলের ভালো সাফল্যগুলো নিয়ে তেমন আলোচনা করি না। টিম কিন্তু মোটের ওপর ভালো ক্রিকেটই খেলছে। একটা টেস্ট ম্যাচ খারাপ গেছে বলেই আমরা একদম বাজে দল হয়ে যাইনি।”
অতীতের স্মরণীয় কিছু জয় স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি আরও বলেন, “ওয়েস্ট ইন্ডিজ যথেষ্ট শক্তিশালী দল, তাদের বিপক্ষে নামলেই যে জিতে যাব বিষয়টি তা নয়। কিন্তু আমরাও ফেলে দেওয়ার মতো দল নই। পাকিস্তানের মতো দলকে তাদের মাটিতে আমরা ২-০ ব্যবধানে হারিয়েছি, ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে গিয়ে জিতেছি, এমনকি অস্ট্রেলিয়াকেও হারিয়েছি। তাই একটা ম্যাচ খারাপ গেছে মানেই যে আমরা আর জিততে পারব না—এমন হতাশাজনক চিন্তা করার কোনো কারণ আমি দেখি না।”
প্রথম টেস্টে বাংলাদেশ দলের অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহীমের অনুপস্থিতি মিডল অর্ডারে বড় শূন্যতা তৈরি করেছিল। এ ছাড়া টপ ও মিডল অর্ডারের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় চোটের সমস্যায় ভুগছিলেন। মাথায় বলের আঘাত পাওয়ায় কনকাশন প্রটোকলে যেতে হয় মুমিনুল হককে। লিটন দাস ও তাওহীদ হৃদয়ও ভুগছিলেন ছোটখাটো চোটে।
তবে সিলেট টেস্টের আগে চোট নিয়ে বড় রকমের স্বস্তির সংবাদ পেয়েছে বাংলাদেশ শিবির। মুশফিকুর রহীম এখন সম্পূর্ণ সুস্থ এবং সিলেটে খেলার জন্য প্রস্তুত। মুমিনুল হকের কনকাশন প্রটোকল শেষ হওয়ায় তাঁকেও পুরোপুরি ফিট ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া লিটন ও হৃদয়ের চোট গুরুতর না হওয়ায় তাঁদের নিয়ে নতুন করে আর কোনো শঙ্কা নেই।
আগামী বৃহস্পতিবার সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হতে যাওয়া দ্বিতীয় টেস্টের জন্য ঘোষিত বাংলাদেশ দলে আনা হয়েছে একটি পরিবর্তন। মুমিনুল হকের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে ১৬ সদস্যের স্কোয়াডে ডাক পেয়েছেন তরুণ ব্যাটার অমিত হাসান। জাতীয় লিগে দীর্ঘদিন ধরে রান পেয়ে আসা অমিত সম্প্রতি একটি ঝকঝকে ২০১ রানের ইনিংস খেলে নির্বাচকদের নজর কাড়েন। অমিতকে সিলেটে একাদশে সুযোগ দেওয়া বা স্কোয়াডে যুক্ত করার নির্দিষ্ট সময় বিসিবি নির্ধারণ না করলেও, একাদশে তাঁর খেলার সম্ভাবনা কিছুটা কম। সে ক্ষেত্রে মুশফিকুর রহীমের বদলে প্রথম টেস্টে সুযোগ পাওয়া তাওহীদ হৃদয় অথবা মুমিনুলের বদলি হিসেবে নামা জাকের আলী অনিকের মধ্য থেকেই কাউকে একাদশে দেখা যেতে পারে।
সিরিজ বাঁচানোর এই মহা গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে চোটের মেঘ কেটে যাওয়া এবং দলের স্তম্ভদের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশকে সিলেটের মাঠে বাড়তি আত্মবিশ্বাস জোগাবে বলে আশা করছেন সমর্থক ও টিম ম্যানেজমেন্ট।



