মেঘনার ঢেউ যেন কাল হলো মেহেন্দীগঞ্জের তিন পরিবারে। নদীতে গোসলে নেমে তলিয়ে গেল তিনটি কচি প্রাণ, বাঁচানো গেল না এক জনকেও। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে চর এককরিয়া ইউনিয়নের গজারিয়া ও মেঘনা নদীর দুই পৃথক স্থানে ঘটে মর্মান্তিক এই ঘটনা।
এক শিশুর লাশ উদ্ধার হলেও, অন্য দুইজনের খোঁজ এখনও মেলেনি। আজ বুধবার ভোর থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল তল্লাশি চালাচ্ছে।
চর এককরিয়ার কোলচর গ্রামে বাদশা দেওয়ানের ছ’ বছরের মেয়ে আবিদা ইসলাম। শান্তিরহাট ফোরকানিয়া মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণির ছাত্রী ছিল সে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সবার অগোচরে একাই নেমেছিল গজারিয়ায়।
পরিবারের লোকজন ঘণ্টা খানেক পর যখন খোঁজাখুঁজি শুরু করেন, তখন ভেসে ওঠে ছোট্ট আবিদার নিথর দেহ। স্থানীয়রা বেলা তিনটার দিকে তাকে উদ্ধার করেন।
আবিদার বড় বোন আয়েশা বেগম বলেন, ’ও তো আমাদের সঙ্গে সব সময় নদীতে যেত। কালও গিয়েছিল, কিন্তু একা। খুঁজে পেলাম নদীর জলে ভাসতে। তখন আর কিছু করার ছিল না।’
একই সময়ে উত্তর দাদপুরচরের আবদুর রশীদ দেওয়ানের ছেলে তাহসিন দেওয়ান (৬) ও শহিদ বিশ্বাসের ছেলে রেজাউল করিমও (৭) স্রোতে ভেসে যায়। দুইজনই কেরাতুল কোরআন মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণির ছাত্র। তারা তীর থেকে নামছিল মেঘনায়। তারপর আর ঘরে ফেরা হয়নি।
রেজাউলের মা রুমানা বেগম চোখের পানি সামলাতে পারলেন না। কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘পরীক্ষা দিয়ে দুপুরে বাড়ি ফিরে বলল, বন্ধুদের সঙ্গে যাবে গোসলে। আমি থালায় ভাত নিয়ে বসে ছিলাম। অনেকক্ষণ না ফেরায় খুঁজতে বের হই। শুনি নদীতে ডুবে গেছে আমার সোনা।’
ফায়ার সার্ভিসের মেহেন্দীগঞ্জ স্টেশন ইনচার্জ আলী আশরাফ বলেন, ‘বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে ৯৯৯-এ ফোন আসে। আমরা তৎক্ষণাৎ বরিশাল থেকে ডুবুরি দল ডাকি। মনে হচ্ছে, সাঁতার না জানায় শিশুরা স্রোতে ভেসে গেছে।’
মেহেন্দীগঞ্জ থানার ওসি ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘নিখোঁজ শিশুদের উদ্ধারে অভিযান চলছে।’
মেঘনা আর তার শাখা খাল গজারিয়ার তীর এখন শোকে স্তব্ধ। কচি প্রাণগুলোর অপেক্ষায় উদ্বেগে রাত কেটেছে পুরো গ্রামের।
খবরওয়ালা/এমএজেড



