বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দকে স্বাগত জানাতে রাজধানীর ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে ‘হাজার কণ্ঠে বর্ষবরণ’ অনুষ্ঠানের ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতি বছরের ধারাবাহিকতায় এ বছরও যৌথভাবে এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে দেশের জনপ্রিয় স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল আই এবং বিশিষ্ট সংগীত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘সুরের ধারা’। পহেলা বৈশাখের ভোরে বর্ণিল এই আয়োজনের মাধ্যমে নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানের সময়সূচি ও পরিকল্পনা
আগামী ১ বৈশাখ রোববার ভোর ৫টা ৩০ মিনিটে রবীন্দ্র সরোবরের উন্মুক্ত মঞ্চে সুরের মূর্ছনায় অনুষ্ঠানটি শুরু হবে। সকাল ৯টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চলবে নববর্ষের এই উৎসব। আয়োজনের মূল আকর্ষণ হিসেবে থাকছেন সুরের ধারার কয়েকশ শিক্ষার্থী এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত কয়েক হাজার শিল্পী, যারা সমবেত কণ্ঠে নতুন বছরের আগমনী গান পরিবেশন করবেন। মূলত বাঙালির প্রাণের উৎসবকে সর্বস্তরের মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতেই দীর্ঘ সময় ধরে এই উদ্যোগটি পরিচালিত হয়ে আসছে।
অংশগ্রহণকারী শিল্পী ও পরিবেশনা
এবারের উৎসবে সংগীত জগতের দিকপালদের পাশাপাশি প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ শিল্পীদের এক মিলনমেলা বসবে। বিশিষ্ট শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার তত্ত্বাবধানে সুরের ধারার শিল্পীরা পরিবেশনায় অংশ নেবেন। এছাড়া একক ও দ্বৈত সংগীত পরিবেশন করবেন দেশের খ্যাতিমান সংগীতশিল্পী রফিকুল আলম, ফাহিম হোসেন চৌধুরী এবং কিরণ চন্দ্র রায়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনার দায়িত্বে থাকবেন জনপ্রিয় উপস্থাপিকা দীপ্তি চৌধুরী। সংগীতের পাশাপাশি থাকবে বিশেষ আবৃত্তি পর্ব, যেখানে প্রখ্যাত আবৃত্তিশিল্পী জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় স্বরচিত বা সংগৃহীত কবিতা পাঠ করবেন।
চৈত্র সংক্রান্তির সমাপ্তি ও বর্ষবরণ
নতুন বছরকে বরণের প্রস্তুতির পাশাপাশি বিদায়ী বছরের বিদায় উদযাপনেও বিশেষ আয়োজন রাখা হয়েছে। চৈত্র মাসের শেষ দিন অর্থাৎ ৩০ চৈত্র বিকেল ৫টা ৩০ মিনিট থেকে একই স্থানে চৈত্র সংক্রান্তির উৎসব পালিত হবে। শাস্ত্রীয় সংগীত, লোকজ গান এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে পুরনো বছরকে বিদায় জানানো হবে, যা পরদিন ভোরে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের পথ প্রশস্ত করবে।
অনুষ্ঠানের সংক্ষিপ্ত তথ্যাবলি
| বিষয় | বিস্তারিত বিবরণ |
| আয়োজক সংস্থা | চ্যানেল আই এবং সুরের ধারা |
| তারিখ ও সময় | ১ বৈশাখ, ভোর ৫:৩০ থেকে সকাল ৯:০০ পর্যন্ত |
| স্থান | রবীন্দ্র সরোবর, ধানমন্ডি, ঢাকা |
| প্রধান আকর্ষণ | হাজার কণ্ঠে সমবেত সংগীত পরিবেশনা |
| অংশগ্রহণকারী প্রবীণ শিল্পী | রফিকুল আলম, ফাহিম হোসেন চৌধুরী, কিরণ চন্দ্র রায় |
| উপস্থাপনা ও আবৃত্তি | দীপ্তি চৌধুরী (উপস্থাপনা), জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায় (আবৃত্তি) |
| পূর্ববর্তী আয়োজন | ৩০ চৈত্র বিকেল ৫:৩০ মিনিটে চৈত্র সংক্রান্তি উৎসব |
সামাজিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব
ধানমন্ডির রবীন্দ্র সরোবরে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি বর্তমানে ঢাকার অন্যতম প্রধান বৈশাখী উৎসবে পরিণত হয়েছে। রমনার বটমূলে ছায়ানটের অনুষ্ঠানের পাশাপাশি এই আয়োজনটি নগরবাসীর কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। হাজার হাজার মানুষের সমবেত কণ্ঠের গান বাঙালির ঐক্য এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে পুনরুজ্জীবিত করে। গ্রামীণ লোকজ সংস্কৃতি ও আধুনিক নাগরিক আবহ—উভয় ধারার সংমিশ্রণে অনুষ্ঠানটি সাজানো হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি আয়োজকদের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক দলও সক্রিয় থাকবে বলে জানা গেছে। চ্যানেল আইয়ের মাধ্যমে সারা বিশ্বের বাংলাভাষী দর্শকরা এই আয়োজনটি সরাসরি দেখার সুযোগ পাবেন।



