খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্ত এলাকায় প্রায় আড়াই কোটি টাকা মূল্যের দশটি স্বর্ণবারসহ আলমগীর খান (৫৫) নামে এক চোরাচালানকারীকে আটক করেছে চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন। আটক ব্যক্তি দর্শনা মোবারকপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
সোমবার ভোর আনুমানিক ছয়টার দিকে দর্শনা পুরাতন রেলস্টেশন এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সীমান্ত এলাকায় স্বর্ণ পাচার হচ্ছে এমন তথ্য পাওয়ার পর ব্যাটালিয়নের একটি বিশেষ টহল দল ওই এলাকায় অবস্থান নেয়। অভিযানের সময় সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে সীমান্তের দিকে দ্রুত অগ্রসর হতে দেখা গেলে তাকে থামার সংকেত দেওয়া হয়। তবে তিনি সংকেত অমান্য করে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে টহল দল ধাওয়া করে তাকে আটক করতে সক্ষম হয়।
আটকের পর উপস্থিত লোকজনের সামনে তার দেহ তল্লাশি করা হয়। এ সময় তার কোমরে বিশেষভাবে খাকি রঙের আঠালো টেপ দিয়ে মোড়ানো দুটি প্যাকেট পাওয়া যায়। প্যাকেট খুলে মোট দশটি স্বর্ণবার উদ্ধার করা হয়, যার মোট ওজন এক কেজি একশত ছেষট্টি গ্রাম। উদ্ধারকৃত স্বর্ণের বাজারমূল্য আনুমানিক দুই কোটি সাতচল্লিশ লাখ উননব্বই হাজার একশত ষাট টাকা বলে জানানো হয়েছে। এছাড়া পাচার কাজে ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
সীমান্ত এলাকায় স্বর্ণ ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতু পাচার দীর্ঘদিন ধরে একটি উদ্বেগজনক বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। বিশেষ করে পার্শ্ববর্তী সীমান্তবর্তী রুটগুলো ব্যবহার করে চোরাকারবারিরা বিভিন্ন কৌশলে স্বর্ণ পাচারের চেষ্টা চালিয়ে থাকে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়মিত অভিযান চালিয়ে এসব অপরাধ প্রতিরোধের চেষ্টা করছে।
চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্ধারকৃত স্বর্ণবারগুলো প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সরকারি কোষাগার দপ্তরে জমা দেওয়া হবে। আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় চোরাচালান প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
নিচে অভিযানের প্রধান তথ্যগুলো সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| ঘটনা স্থান | দর্শনা পুরাতন রেলস্টেশন এলাকা |
| সময় | ভোর ছয়টা, সোমবার |
| আটক ব্যক্তি | আলমগীর খান (৫৫) |
| উদ্ধারকৃত স্বর্ণ | দশটি স্বর্ণবার |
| মোট ওজন | এক কেজি একশত ছেষট্টি গ্রাম |
| আনুমানিক মূল্য | প্রায় দুই কোটি সাতচল্লিশ লাখ টাকা |
| জব্দ সামগ্রী | একটি মোবাইল ফোন |
| অভিযান পরিচালনাকারী | চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন |
অভিযান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সীমান্ত এলাকায় নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের চোরাচালান কার্যক্রম রোধ করা যায়। স্থানীয় পর্যায়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হচ্ছে।
এই ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় আবারও চোরাচালান প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্রিয় ভূমিকা এবং তৎপরতা তুলে ধরেছে, যা অবৈধ স্বর্ণ পাচার রোধে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।