খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড় ও আকস্মিক বজ্রপাতে পৃথক দুর্ঘটনায় সাতটি জেলায় অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। পটুয়াখালী, বরগুনা, জামালপুর, বাগেরহাট, গাজীপুর, রংপুর ও রাজবাড়ী জেলায় এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পটুয়াখালী জেলায়। এছাড়া বরগুনায় বজ্রপাতের বিকট শব্দে ১৫ জন স্কুলশিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
পটুয়াখালী জেলায় বজ্রপাতে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। কলাপাড়া উপজেলায় দুইজন এবং রাঙ্গাবালী উপজেলায় একজন প্রাণ হারান।
সেতারা বেগম (৫৫): কলাপাড়া উপজেলার চাকামইয়া ইউনিয়নের পূর্ব চাকামইয়া গ্রামে বেলা ২টার দিকে মাঠে গরু চরাতে যাওয়ার সময় বজ্রপাতের শিকার হন তিনি। কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকদের মতে, বজ্রপাতের প্রচণ্ড শব্দে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।
খালেক হাওলাদার (৫৫): কলাপাড়ার শান্তিপুর গ্রামে দুপুরে মাঠ থেকে গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতের শিকার হন এই কৃষক। তাঁর শরীর বজ্রপাতে ঝলসে যায়। আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
সৌরভ মজুমদার (২২): রাঙ্গাবালী উপজেলার বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের চরগঙ্গা গ্রামে সকাল ৯টার দিকে কালবৈশাখীর কবলে পড়ে বজ্রপাতে তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি মাঠে গরু চরাচ্ছিলেন। নিহতের পরিবার জানায়, মাত্র এক সপ্তাহ আগে তিনি সন্তানের জনক হয়েছিলেন।
বরগুনা ও জামালপুর জেলায় পৃথক বজ্রপাতে দুইজন করে মোট চারজন নিহত হয়েছেন।
বরগুনা: আমতলী উপজেলার পূজাখোলা গ্রামের মো. নূর জামাল (৫৪) এবং পাথরঘাটা উপজেলার পদ্মা এলাকার জেলে মো. আল আমিন (৩০) বজ্রপাতে নিহত হন। এছাড়া বরগুনা সদর উপজেলার ফুলঝুরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভবনের পাশে বজ্রপাত হলে বিকট শব্দে ১৫ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের মধ্যে আটজন বরগুনা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
জামালপুর: ইসলামপুর উপজেলায় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। দশআনী নদীতে শিবজাল দিয়ে মাছ ধরার সময় শামীম মিয়া (৩০) নামের এক ব্যক্তি নিহত হন। অন্যদিকে, সাপধরী ইউনিয়নে এলজিইডির একটি সড়ক নির্মাণকাজের সময় সাগর আলী (১৩) নামের এক শিশু শ্রমিক বজ্রপাতে মারা যায়।
বাগেরহাট, রাজবাড়ী, গাজীপুর ও রংপুরে বজ্রপাতে আরও চারজনের প্রাণহানির তথ্য পাওয়া গেছে।
রাজবাড়ী: সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নে সুমন মণ্ডল (৩৫) নামের এক যুবক সকালে তাঁর সাড়ে পাঁচ বছর বয়সী কন্যাসন্তানকে কোলে নিয়ে দোকানে যাওয়ার সময় বজ্রপাতের শিকার হন। সুমন নিহত হলেও তাঁর মেয়ে সাফিয়া অলৌকিকভাবে বেঁচে যায়।
বাগেরহাট: সদর উপজেলার সরকারডাঙ্গা গ্রামে বিকেলে মাঠ থেকে গরু আনতে গিয়ে রবিন হাওলাদার (৫৩) নামের এক দিনমজুরের মৃত্যু হয়েছে। বাগেরহাট মডেল থানা পুলিশ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
গাজীপুর: কালীগঞ্জ উপজেলার জাঙ্গালিয়া ইউনিয়নে মো. জাকির হোসেন খান (৩২) নামের এক মৎস্যজীবী সকালে মাছ বিক্রি করতে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে নিহত হন।
রংপুর: তারাগঞ্জ উপজেলার সয়ার ইউনিয়নে সাহেরা বেগম নামের এক গৃহবধূ বেলা ১১টার দিকে উঠানে বাঁধা গরু গোয়ালে নেওয়ার সময় বজ্রপাতের আঘাতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।
সংশ্লিষ্ট এলাকার স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা এসব মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। কালবৈশাখী ঝড়ের মৌসুমে বজ্রপাত থেকে রক্ষায় খোলা মাঠে অবস্থান না করা এবং বৃষ্টি ও মেঘের গর্জনের সময় নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে গবাদি পশু চড়ানো এবং কৃষিকাজে নিয়োজিত ব্যক্তিদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। নিহতদের পরিবারগুলোতে আকস্মিক এই দুর্যোগে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।