খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
বাংলাদেশ ক্রিকেটের দুই অবিস্মরণীয় নক্ষত্র সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবাল। দীর্ঘ সময় সতীর্থ ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে জাতীয় দলকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেলেও ক্যারিয়ারের সায়াহ্নে এসে তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পর্কে তৈরি হওয়া দূরত্ব ক্রিকেটপাড়ার এক আলোচিত বিষয়। বর্তমানে এই দুই ক্রিকেটারের অবস্থান ও ভূমিকাও সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রেক্ষাপটে আবর্তিত হচ্ছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও আইনি জটিলতার কারণে সাকিব আল হাসান বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে অংশগ্রহণ করছেন। অন্যদিকে, দেশের ক্রিকেটের প্রশাসনিক সংস্কারের অংশ হিসেবে তামিম ইকবাল গ্রহণ করেছেন এক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
গত ৭ এপ্রিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রশাসনিক কাঠামোয় বড় ধরণের পরিবর্তন আনা হয়। আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বিদ্যমান পরিচালনা পর্ষদটি আনুষ্ঠানিকভাবে ভেঙে দেওয়া হয়। এই শূন্যতা পূরণে এবং বিসিবির পরবর্তী নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন বা অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। দেশের ক্রিকেটে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা ফিরিয়ে আনার উদ্দেশ্যে গঠিত এই বিশেষ কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সাবেক সফল অধিনায়ক তামিম ইকবালকে।
এই অ্যাডহক কমিটির প্রাথমিক মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে তিন মাস। এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন কমিটির প্রধান কাজ হবে একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা, যার মাধ্যমে বিসিবির স্থায়ী পরিচালনা পর্ষদ গঠিত হবে। ক্রিকেট মহলে গুঞ্জন রয়েছে যে, নির্বাচন আয়োজন শেষে তামিম ইকবাল অ্যাডহক কমিটির দায়িত্ব ত্যাগ করে সরাসরি সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন।
বিদেশের মাটিতে অবস্থানকালীন এক সাক্ষাৎকারে বিসিবির বর্তমান পরিস্থিতি এবং তামিম ইকবালের দায়িত্ব গ্রহণ নিয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেন সাকিব আল হাসান। তামিমকে এই পদে দেখে সন্তোষ প্রকাশ করলেও পদের ধরণ এবং মূল দায়িত্ব সম্পর্কে সাকিব তাঁর স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন। সাকিবের মতে, তামিম বর্তমানে কোনো নির্বাচিত প্রতিনিধি নন, বরং একটি বিশেষ পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছেন।
সাকিব আল হাসান তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন:
“সে (তামিম ইকবাল) তো নির্বাচিত হয়ে আসেনি। সে মূলত একটি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের গুরুদায়িত্ব পেয়েছে। আমি মনে করি, সে যদি ভবিষ্যতে পূর্ণ মেয়াদে সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়, তবে ক্রিকেট নিয়ে তার একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা থাকবে। আর তেমনটি হলে নিশ্চিতভাবেই বাংলাদেশ ক্রিকেট তার অভিজ্ঞতা থেকে ব্যাপকভাবে উপকৃত হবে।”
সাকিবের এই মন্তব্য থেকে এটি প্রতীয়মান হয় যে, তিনি তামিমের নেতৃত্ব দেওয়ার সামর্থ্যের ওপর আস্থাশীল হলেও বর্তমান অ্যাডহক কমিটির সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতা এবং মূল লক্ষ্যের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন।
সাক্ষাৎকারে কেবল প্রশাসনিক বিষয় নয়, বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাম্প্রতিক মাঠের পারফরম্যান্স নিয়েও ইতিবাচক বিশ্লেষণ করেছেন সাকিব আল হাসান। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সাফল্য তাঁকে আশাবাদী করে তুলেছে। সাকিব মনে করেন, বাংলাদেশ দলের খেলার ধরনে একটি গুণগত পরিবর্তন এসেছে যা দীর্ঘমেয়াদে দলের জন্য কল্যাণকর।
সাকিব বলেন, “বাংলাদেশ দল এই মুহূর্তে সত্যিই প্রশংসনীয় ক্রিকেট খেলছে। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে তাদের হারানো এবং টি-টোয়েন্টি সিরিজে প্রথম ম্যাচেই জয় পাওয়া দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে। বর্তমান দলের সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক হলো দলগত পারফরম্যান্স।”
সাকিবের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আগে বাংলাদেশ দলের জয় অনেকটা ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের ওপর নির্ভরশীল ছিল। কোনো একজন ক্রিকেটার অসাধারণ খেললে তবেই দল জয়ের দেখা পেত। কিন্তু বর্তমান দলটি কোনো একক ব্যক্তির ওপর নির্ভর না করে ‘টিম গেম’ বা দলগত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ফলাফল অর্জন করছে। এগিয়ে যাওয়ার জন্য দলকেন্দ্রিক এই মানসিকতাকে সবচেয়ে কার্যকর উপায় বলে অভিহিত করেছেন সাবেক এই বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার।