খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৬ এপ্রিল ২০২৫
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন কেন্দ্রিক হামলা, ভাঙচুর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে রাজধানীর কোতোয়ালি থানার মামলায় আওয়ামীপন্থি ১৯ আইনজীবীর জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত। এ ছাড়া আত্মসমর্পণ করা ৮৩ জনের মধ্যে বাকি ৬৪ জনের জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
রবিবার (৬ এপ্রিল) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ জাকির হোসেন গালিবের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। জামিন পাওয়া ১৯ জনের মধ্যে ১৮ জনই মহিলা আইনজীবী।
এর আগে এদিন সকালে আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে আত্মসমর্পণপূর্বক জামিনের আবেদন করেন তারা। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তাদের জামিন শুনানি শুরু হয়। দীর্ঘ শুনানি শেষে বিকেল ৫টার পর আদালত এ আদেশ দেন।
এসব তথ্য নিশ্চিত করেন সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী জুহুরুল ফয়েজ ভুট্টু। তিনি জানান, আসামিপক্ষে জামিন চাওয়া হয়। রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করেন। শুনানি শেষে আদালত সন্তুষ্ট হয়ে ১৯ জনের জামিন মঞ্জুর করেছেন। বাকিদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। তবে ৩ জন পলাতক রয়েছেন।
ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, বয়স বিবেচনায় একজন পুরুষ আইনজীবী ও নারী বিবেচনায় ১৮ জনকে জামিন দেওয়া হয়েছে। বাকিদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। আওয়ামী লীগের এসব আইনজীবীরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের ওপর হামলা করেছিল। আদালতের এ আদেশে আমরা সন্তুষ্ট।
আসামি পক্ষের আইনজীবী এস এম মাসুদ হোসেন দোলন বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী ঢাকা বারের সাবেক সভাপতি ও সেক্রেটারিসহ ৮৩ জন আইনজীবী আজ মহানগর আদালতে জামিনের জন্য আবেদন করেন। তাদের মধ্যে বারের সাবেক সভাপতি আবু সাঈদ সাগর ও মহিলা ১৮ জন আইনজীবীকে জামিন দেন আদালত। অন্যান্য আইনজীবীদের জামিন দেওয়া হয়নি। এটা আইনের শাসনের পরিপন্থি। এ ব্যাপারে হাইকোর্টে আমরা যাবো। আশা করি, সেখানে ন্যায়বিচার পাবো।
জানা গেছে, বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে চলাকালে ৪ আগস্ট আদালত প্রাঙ্গণে আইনজীবীদের ওপর হামলা, চেম্বার ভাঙচুর ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় আওয়ামীপন্থি ১৪৪ জন আইনজীবীর বিরুদ্ধে ৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য মোহাম্মদ আলী বাবু। আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে অভিযোগটি কোতোয়ালি থানায় এজাহার হিসেবে গ্রহণ করার আদেশ দেন।
মামলা দায়েরের এ ঘটনায় হাইকোর্ট থেকে ৮ সপ্তাহের আগাম জামিন নেন ১১৫ জন। আগামীকাল ৭ এপ্রিল তাদের জামিনের মেয়াদ শেষ হবে।
এ মামলার অন্যতম আসামিরা হলেন- আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক কাজী নজিবুল্লাহ হিরু, ঢাকা মহানগর আদালতের সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. আব্দুল্লাহ আবু, আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমান বাদল, মো. সাইদুর রহমান মানিক, মো. মিজানুর রহমান মামুন, আব্দুর রহমান হাওলাদার, গাজী মো. শাহ আলম, আব্দুল বাতেন, মাহবুবুর রহমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক খন্দকার গোলাম কিবরিয়া জুবায়ের, মোহাম্মদ আনোয়ার শাহাদাৎ শাওন, মো. ফিরোজুর রহমান মন্টু, মো. আসাদুজ্জামান খান রচি ও সাবেক সংসদ সদস্য সানজিদা খানম।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন চলাকালে গত বছরের ৪ আগস্ট দুপুরে আসামিরা ঢাকা আইনজীবী সমিতির সম্মুখ থেকে বেআইনি জনতাবদ্ধে আবদ্ধ হয়ে অস্ত্র, লাঠিসোঁটা নিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন। তারা বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ‘শেখ হাসিনার ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন।
এ সময় ভুক্তভোগী আইনজীবী মামলা শুনানি শেষে করে ঢাকা আইনজীবী সমিতি ভবনের সামনে আসেন। তখন আসামি আনোয়ার শাহাদাৎ শাওন হেলমেট পরে হত্যার উদ্দেশ্যে তার দিকে গুলি তাক করেন।
খবরওয়ালা/আরডি