খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
সাম্প্রতিক সময়ে সীমিত ওভারের সিরিজে পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ পাওয়ার পর, পূর্ণাঙ্গ টেস্ট সিরিজ খেলতে পুনরায় বাংলাদেশ সফরে আসছে পাকিস্তান ক্রিকেট দল। গত মাসে অনুষ্ঠিত তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে স্বাগতিক বাংলাদেশের কাছে ২-১ ব্যবধানে পরাজিত হওয়ার পর, এবার সাদা পোশাকের ক্রিকেটে নিজেদের আধিপত্য পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। নতুন কোচিং স্টাফ এবং বেশ কয়েকজন অনভিষিক্ত তরুণ ক্রিকেটারকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি শক্তিশালী দল গঠনের প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা গেছে।
বাংলাদেশের কন্ডিশন ও আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিতে পাকিস্তান ক্রিকেট দল তাদের বিশেষ প্রস্তুতি ক্যাম্পের জন্য করাচিকে বেছে নিয়েছে। করাচির হানিফ মোহাম্মদ হাইপারফরম্যান্স সেন্টারে বর্তমানে শান মাসুদের নেতৃত্বাধীন দলটি নিবিড় অনুশীলনে ব্যস্ত রয়েছে। এই ক্যাম্পটি করাচিতে আয়োজন করার নেপথ্যে যৌক্তিক ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন পাকিস্তান টেস্ট দলের বর্তমান প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, করাচির আবহাওয়া ও আর্দ্রতার সঙ্গে বাংলাদেশের বর্তমান আবহাওয়ার ব্যাপক সাদৃশ্য রয়েছে, যা ক্রিকেটারদের শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে সহায়তা করবে।
পাকিস্তান টেস্ট দলের ম্যানেজমেন্টে এবার আমূল পরিবর্তন আনা হয়েছে। সাবেক অধিনায়ক ও অভিজ্ঞ উইকেটরক্ষক-ব্যাটার সরফরাজ আহমেদ এখন দলের প্রধান কোচের গুরুদায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর সহযোগী হিসেবে বোলিং কোচের দায়িত্বে আছেন সাবেক পেসার উমর গুল এবং ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন আসাদ শফিক। এছাড়া গ্রান্ট লুডেন এবং আবদুল সাদও টিম ম্যানেজমেন্টের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে কাজ করছেন।
সরফরাজ আহমেদ তাঁর নতুন দায়িত্ব সম্পর্কে আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করে বলেন, সাবেক সতীর্থদের সঙ্গে নিয়ে গঠিত এই শক্তিশালী ম্যানেজমেন্ট দলটিকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে উমর গুল ও আসাদ শফিকের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের কোচিং প্যানেলে অন্তর্ভুক্তি দলের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সহায়ক হবে বলে তিনি মনে করেন।
বাংলাদেশ সফরের জন্য শান মাসুদকে অধিনায়ক করে ১৬ সদস্যের টেস্ট দল ঘোষণা করেছে পিসিবি। ঘোষিত এই স্কোয়াডে তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার মিশ্রণ ঘটানো হয়েছে। দলে বাবর আজম ও মোহাম্মদ রিজওয়ানের মতো বিশ্বসেরা ব্যাটারদের পাশাপাশি চারজন নতুন ক্রিকেটারকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাকিস্তানের ঘরোয়া ক্রিকেটে দারুণ পারফরম্যান্সের সুবাদে প্রথমবারের মতো জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন আমাদ বাট, আবদুল্লাহ ফজল, আজান আওয়াইস এবং মুহাম্মদ গাজী ঘোরি।
বাংলাদেশ সফরের আগে পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) পারফরম্যান্স ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাসে প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে সাবেক অধিনায়ক বাবর আজমের ফর্ম টিম ম্যানেজমেন্টের জন্য বড় স্বস্তির কারণ। বাবর চলতি পিএসএলে দুর্দান্ত ব্যাটিং শৈলী প্রদর্শন করেছেন। তিনি পুরো আসরে ৫৮৮ রান সংগ্রহ করে পিএসএলের এক আসরে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে দুটি চোখধাঁধা সেঞ্চুরি। বাবরের এই ফর্ম সম্পর্কে প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ বলেন, বাবরের টেকনিক্যাল উন্নতি এবং রানের ক্ষুধা টেস্ট সিরিজে পাকিস্তানের জন্য বড় সম্পদ হবে।
অন্যদিকে, মোহাম্মদ রিজওয়ানের জন্য এবারের পিএসএল কিছুটা হতাশাজনক ছিল। তাঁর নেতৃত্বে নবাগত দল ‘রাওয়ালপিন্ডিজ’ লিগ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছে এবং রিজওয়ান পুরো টুর্নামেন্টে ২০৪ রান করতে সক্ষম হয়েছেন। তবে টেস্ট ক্রিকেটে তাঁর সামর্থ্য নিয়ে কোচিং স্টাফরা আশাবাদী।
আগামী ২ মে লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে পিএসএলের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে। এরপরই পাকিস্তান দল বাংলাদেশে পৌঁছাবে। সিরিজের সূচি অনুযায়ী:
প্রথম টেস্ট: ৮ মে, ২০২৬ তারিখে ঢাকার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হবে।
দ্বিতীয় টেস্ট: ১৬ মে, ২০২৬ তারিখে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হবে।
উল্লেখ্য যে, ২০২৪ সালে পাকিস্তানের মাটিতে অনুষ্ঠিত টেস্ট সিরিজে বাংলাদেশ ঐতিহাসিক পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে পাকিস্তানকে ২-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করেছিল। সেই হারের প্রতিশোধ নেওয়া এবং বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের টেবিলে নিজেদের অবস্থান শক্ত করা এখন পাকিস্তানের মূল লক্ষ্য। অন্যদিকে, ঘরের মাঠে পাকিস্তান বধের স্মৃতি নিয়ে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ দলও নিজেদের জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে মুখিয়ে আছে।
পাকিস্তানের বর্তমান পরিকল্পনা স্পষ্টত তাদের ব্যাটিং গভীরতা এবং কোচিং ফিলোসফির ওপর ভিত্তি করে সাজানো হয়েছে। মিরপুর ও সিলেটের স্পিন সহায়ক উইকেটের কথা মাথায় রেখে পাকিস্তান দল তাদের কৌশলে পরিবর্তন আনছে কিনা, তা অনুশীলনের ধরণ দেখে অনুমান করা যাচ্ছে। দীর্ঘ ফরম্যাটের এই লড়াইয়ে দুই দলের স্পিন এবং পেস আক্রমণের মধ্যে একটি হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের প্রত্যাশা করছেন ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। পিসিবির লক্ষ্য তরুণদের সুযোগ দিয়ে দীর্ঘমেয়াদী একটি টেস্ট দল গড়ে তোলা, যার পরীক্ষা হবে এই বাংলাদেশ সফরেই।