রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী ও অপরাধ দমন অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৮২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। একই সময়ে দায়ের করা হয়েছে ৩২টি মামলা। অভিযানে মাদকদ্রব্য, জাল নোট, নগদ টাকা, মোবাইল ফোন, কম্পিউটার সরঞ্জামসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার, ২২ আগস্ট, ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া ও জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, অপরাধ প্রতিরোধ এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় সন্দেহভাজন ও বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের আটক করে যাচাই-বাছাইয়ের পর গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি গ্রেপ্তার করা হয়েছে মিরপুর বিভাগে। এ বিভাগ থেকে ১১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর মতিঝিল বিভাগে ৫৭ জন, উত্তরা বিভাগে ৫৯ জন, তেজগাঁও বিভাগে ৫৬ জন এবং ওয়ারী বিভাগে ৫৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এ ছাড়া রমনা ও লালবাগ বিভাগ থেকে ৪৪ জন করে, গুলশান বিভাগ থেকে ৩৯ জন এবং গোয়েন্দা বিভাগ থেকে ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিভিন্ন বিভাগের অভিযানের সমন্বিত ফল হিসেবেই ৪৮২ জন গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযানে উদ্ধার হওয়া মাদকদ্রব্যের পরিমাণও উল্লেখযোগ্য। পুলিশ জানিয়েছে, ১৩ হাজার ৯১৪ পিস ইয়াবা, ৯১৩ গ্রাম হেরোইন এবং ৩২ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। এর পাশাপাশি একটি স্বর্ণের লকেট, ১৬ হাজার টাকার জাল নোট, নয়টি মোবাইল ফোন, তিনটি ল্যাপটপ, দুটি সিপিইউ, দুটি ট্যাব ও ৫৫টি সিমকার্ড জব্দ করা হয়।
অভিযান থেকে নগদ ২ লাখ ৬৮ হাজার ৫০০ টাকাও উদ্ধার করা হয়েছে। বিভিন্ন ধরনের প্রযুক্তি সরঞ্জাম ও বিপুলসংখ্যক সিমকার্ড উদ্ধারের বিষয়টি পুলিশের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে এসব সামগ্রী কোন কোন মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এবং কোন ব্যক্তির কাছ থেকে কী পরিমাণ উদ্ধার হয়েছে, সে বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
গ্রেপ্তারের পাশাপাশি ৩২টি মামলা দায়েরের তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। এসব মামলায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। মাদকদ্রব্য উদ্ধারের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে এবং অন্যান্য আলামতের ভিত্তিতে প্রযোজ্য আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য থেকে ধারণা করা যায়।
রাজধানীতে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান চালায় পুলিশ। বিশেষ করে মাদক পরিবহন, বিক্রি ও সেবন ঠেকাতে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান জোরদার করা হয়। একই সঙ্গে চুরি, ছিনতাই, প্রতারণা ও অন্যান্য অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান পরিচালনা করে।
তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করা যায় না। তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হবে। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া আলামত ও মাদকদ্রব্যের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে।


