রাজধানী ঢাকায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অপরাধবিরোধী অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৮১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় বিভিন্ন অপরাধে ৪৮টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের সংখ্যায় ডিএমপির মিরপুর বিভাগ রয়েছে শীর্ষে। এ বিভাগ থেকে ১৫৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যা নয়টি বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) ডিএমপির গণমাধ্যম শাখা থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় পরিচালিত অভিযানে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে মাদকদ্রব্য, মোবাইল ফোন, মোটরসাইকেল, অস্ত্রসদৃশ ধারালো বস্তু, স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে একজন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়েছে।
ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, অভিযানে সবচেয়ে বেশি গ্রেপ্তার হয়েছেন মিরপুর বিভাগ থেকে। এরপর রয়েছে ওয়ারী ও মতিঝিল বিভাগ। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, মাদকবিরোধী তৎপরতা এবং অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার অংশ হিসেবে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।
বিভাগভিত্তিক গ্রেপ্তারের চিত্র
ডিএমপির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর বিভিন্ন বিভাগ থেকে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের সংখ্যা নিচে তুলে ধরা হলো।
-
মিরপুর বিভাগ: ১৫৯ জন
-
ওয়ারী বিভাগ: ৯০ জন
-
মতিঝিল বিভাগ: ৮৯ জন
-
লালবাগ বিভাগ: ৭১ জন
-
তেজগাঁও বিভাগ: ৬৮ জন
-
গুলশান বিভাগ: ৪২ জন
-
উত্তরা বিভাগ: ৩৯ জন
-
রমনা বিভাগ: ১৯ জন
-
গোয়েন্দা বিভাগ: ৪ জন
বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মিরপুর বিভাগে গ্রেপ্তারের সংখ্যা অন্য বিভাগগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। ওয়ারী ও মতিঝিল বিভাগেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে এসব বিভাগের মধ্যে অপরাধের ধরন, অভিযানের পরিধি কিংবা গ্রেপ্তারের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ
ডিএমপির অভিযানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৯ হাজার ৩৬০ পিস ইয়াবা, ৫০ কেজি ৪৫০ গ্রাম গাঁজা এবং ২০ বোতল ফেনসিডিল। মাদকদ্রব্যের পাশাপাশি নয়টি মোবাইল ফোন, একটি মোটরসাইকেল, একটি চাকু, ৬১ দশমিক ৮০ গ্রাম স্বর্ণালংকার এবং ৭ হাজার ৮০০ টাকা জব্দ করা হয়েছে।
অভিযানকালে একজন ভুক্তভোগীকেও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে ওই ব্যক্তির পরিচয়, কী পরিস্থিতিতে তাঁকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি।
রাজধানীতে মাদকদ্রব্যের বিস্তার নিয়ন্ত্রণ এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ইয়াবা, গাঁজা ও ফেনসিডিলের মতো মাদকদ্রব্য উদ্ধারের ঘটনা এসব অপরাধ দমনে পুলিশের তৎপরতার একটি দিক তুলে ধরে। তবে উদ্ধার করা মাদকের সঙ্গে কারা জড়িত, সেগুলো কোথা থেকে এসেছে কিংবা কোথায় সরবরাহের পরিকল্পনা ছিল—এসব তথ্য তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হবে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা
ডিএমপি জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। দায়ের করা ৪৮টি মামলার বিস্তারিত বিবরণ, মামলাগুলোর অপরাধের ধরন এবং প্রতিটি মামলায় কতজনকে আসামি করা হয়েছে, তা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আলাদাভাবে জানানো হয়নি।
আইন অনুযায়ী, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। গ্রেপ্তার মানেই কোনো ব্যক্তি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন—এমন নয়; আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার আগে প্রত্যেকের আইনগত অধিকার বহাল থাকে।
রাজধানীর জননিরাপত্তা বজায় রাখা, মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ এবং বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার লক্ষ্যে ডিএমপির এ ধরনের অভিযান নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ। তবে অভিযানের কার্যকারিতা মূল্যায়নে গ্রেপ্তারের সংখ্যা ও জব্দ করা সামগ্রীর পাশাপাশি মামলার তদন্তের অগ্রগতি, অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধ এবং উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের নিরাপত্তার বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ।
এক দিনের অভিযানে ৫৮১ জনকে গ্রেপ্তার এবং বিভিন্ন ধরনের সামগ্রী জব্দের তথ্য প্রকাশ করেছে ডিএমপি। এখন এসব ঘটনায় তদন্তের অগ্রগতি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নেওয়া আইনগত পদক্ষেপের দিকে নজর থাকবে।


