বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসার শরীফুল ইসলামের দুর্দান্ত বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের নিয়aন্ত্রণে ফেরার সুযোগ তৈরি হয়েছে টাইগারদের সামনে। প্রথম ইনিংসে মাত্র ৬৪ রানে অলআউট হওয়ার পরও বল হাতে দারুণ প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে বাংলাদেশ। এরই মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে ছয়টি উইকেট তুলে নিয়ে নিজের ক্যারিয়ারে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছেন শরীফুল।
অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে নিজের ষষ্ঠ শিকার হিসেবে মিচেল স্টার্ককে সাজঘরে ফেরান এই বাঁহাতি পেসার। মজার ব্যাপার হলো, বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে স্টার্কই ছিলেন সবচেয়ে সফল বোলার। একাই ছয় উইকেট নিয়ে তিনি বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপকে গুঁড়িয়ে দিয়েছিলেন। এবার সেই স্টার্ককেই ফিরিয়ে দিয়ে শরীফুল পূর্ণ করলেন নিজের ছয় উইকেট।
এর আগে ক্যারিয়ারের প্রথম পাঁচ উইকেটের মাইলফলকও স্পর্শ করেছিলেন শরীফুল। ফাইফারের পর খুব বেশি সময় না যেতেই ষষ্ঠ উইকেট পাওয়ায় তার বোলিং পারফরম্যান্স আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে একের পর এক উইকেট তুলে নিয়ে তিনি অস্ট্রেলিয়ার বড় লিড নেওয়ার পথ কঠিন করে দিয়েছেন।
প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার স্কোর ৩৬ ওভারে ১৫৫ রান ৮ উইকেট। অর্থাৎ প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের ৬৪ রানের জবাবে স্বাগতিকরা ৯১ রানের লিড পেয়েছে। হাতে রয়েছে মাত্র দুই উইকেট। ফলে অস্ট্রেলিয়ার লক্ষ্য এখন যতটা সম্ভব ব্যবধান বাড়ানো, আর বাংলাদেশের বোলারদের চেষ্টা হবে দ্রুত শেষ দুটি উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে নিজেদের অবস্থান শক্ত করা।
ম্যাচের শুরুতে অবশ্য পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। অস্ট্রেলিয়ার পেস আক্রমণের সামনে বাংলাদেশের ব্যাটাররা খুব বেশি সময় টিকতে পারেননি। মাত্র ৬৪ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস। মিচেল স্টার্ক একাই ছয় উইকেট নিয়ে স্বাগতিকদের হয়ে বড় ভূমিকা রাখেন। তার গতিময় ও নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে বাংলাদেশের ব্যাটিং অর্ডার ধারাবাহিকভাবে ভেঙে পড়ে।
বাংলাদেশের এমন ব্যাটিং বিপর্যয়ের পর অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের শুরুটাও ছিল বেশ আত্মবিশ্বাসী। স্বাগতিক ব্যাটাররা দ্রুত রান তুলতে শুরু করায় মনে হচ্ছিল, প্রথম ইনিংসেই বড় ব্যবধান তৈরি করে ফেলবে তারা। কিন্তু দিনের শেষ সেশনে বাংলাদেশের পেসাররা ম্যাচের গতিপথ বদলে দেন।
নতুন বল ও পরবর্তী সময়ে ধারাবাহিক বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ে চাপ তৈরি করতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ। শরীফুলের পাশাপাশি অন্য বোলাররাও নিয়মিত অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের অস্বস্তিতে রাখেন। একপর্যায়ে অস্ট্রেলিয়া দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারালে বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়।
এখন ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে অস্ট্রেলিয়ার শেষ দুই উইকেট। তারা আর কত রান যোগ করতে পারে, তার ওপর বাংলাদেশের সামনে চ্যালেঞ্জের মাত্রা অনেকটাই নির্ভর করবে। ৯১ রানের লিড ইতোমধ্যে অস্ট্রেলিয়াকে সুবিধাজনক অবস্থানে রেখেছে। তবে দ্রুত ইনিংস শেষ করতে পারলে বাংলাদেশও ম্যাচে লড়াইয়ের সুযোগ ধরে রাখতে পারবে।
শরীফুলের ছয় উইকেট তাই শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, দলের জন্যও বড় স্বস্তির বিষয়। বাংলাদেশের ব্যাটিং যেখানে প্রথম ইনিংসে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি, সেখানে বোলারদের এমন প্রত্যাবর্তন ম্যাচটিকে আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলেছে। অস্ট্রেলিয়া শেষ পর্যন্ত কত রান পর্যন্ত লিড বাড়াতে পারে এবং বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে সেই লক্ষ্য কীভাবে মোকাবিলা করে—ম্যাচের পরবর্তী সময়ের বড় প্রশ্ন এখন সেটিই।


