মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায় ষাটোর্ধ্ব এক ভিক্ষুক নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে দুই যুবক এবং ছিনতাই হওয়া চেইন কেনার অপরাধে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগী নারীর গলায় থাকা রুপার চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার পর তা ওই ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে পুলিশ আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চুরি যাওয়া রুপার চেইনটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
শুক্রবার (৫ জুন, ২০২৬) ভুক্তভোগী নারী নিজে বাদী হয়ে শিবালয় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এরপর পুলিশ দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে এই তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।
ঘটনার বিবরণ ও প্রতারণার কৌশল
মামলার বিবরণ এবং পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী পেশায় একজন ভিক্ষুক। গত ৩০ মে (২০২৬) দুপুরে তিনি স্থানীয় একটি বাজারে ভিক্ষা করছিলেন। ওই সময় শিবালয় উপজেলার দক্ষিণ তেওতা এলাকার বাসিন্দা আশরাফুল (২৬) ও রবিন ওরফে সোহেল রানা (২৭) নামের দুই যুবক তাঁর কাছে আসে। তারা ভুক্তভোগী নারীকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে জানায় যে, রবিনের মা তাকে কিছু সাহায্য সামগ্রী দেওয়ার জন্য বাড়িতে ডেকেছেন। যুবকদের এই কথায় বিশ্বাস করে সরল মনে ওই নারী একটি ইজিবাইকে চড়ে তাদের সাথে রওনা হন।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ইজিবাইকটি দক্ষিণ তেওতা এলাকার তৈয়বের বাঁশঝাড়ের কাছাকাছি পৌঁছালে ওই দুই যুবক ইজিবাইক থেকে নেমে ভুক্তভোগী নারীকে জোরপূর্বক বাঁশবাগানের ভেতরে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে শারীরিক মারধর ও প্রাণনাশের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আশরাফুল ও রবিন পালাক্রমে ধর্ষণ করে। ধর্ষণের একপর্যায়ে আশরাফুল কৌশলে ভুক্তভোগী নারীর গলায় থাকা প্রায় ১ ভরি ১৪ আনা ওজনের একটি রুপার চেইন ছিনিয়ে নেয়। ঘটনার পর এই বিষয়ে কাউকে কোনো কিছু জানালে তাকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দিয়ে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
আসামিদের আটক ও মালামাল উদ্ধার
ঘটনার পর ভুক্তভোগী নারী বিষয়টি তাঁর স্বজনদের জানান। পরবর্তীতে স্বজন ও স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় শুক্রবার বিকেলে উপজেলার ষাইটঘর বাজার এলাকা থেকে অভিযুক্ত আশরাফুল ও রবিনকে প্রথমে আটকে রাখা হয়। খবর পেয়ে শিবালয় থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের নিজেদের হেফাজতে নেয়।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত দুই অভিযুক্ত স্বীকার করে যে, ছিনতাই করা রুপার চেইনটি তারা তেওতা বাজারের স্বর্ণ ব্যবসায়ী নিতাই চন্দ্র পালের (৪৫) কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। এই স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে পুলিশ তেওতা বাজারে অভিযান চালিয়ে স্বর্ণ ব্যবসায়ী নিতাই চন্দ্র পালকে আটক করে এবং তাঁর দোকান থেকে ভুক্তভোগীর ছিনতাই হওয়া রুপার চেইনটি উদ্ধার করে।
আইনি পদক্ষেপ ও বর্তমান অবস্থা
এই অপরাধমূলক ঘটনার প্রেক্ষিতে শিবালয় থানায় সংশ্লিষ্ট আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম গণমাধ্যমকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান যে, ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেপ্তারকৃত তিন আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে পুলিশের তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ ও আসামিদের প্রোফাইল
সংবাদ সংশ্লিষ্ট প্রধান তথ্য ও আসামিদের বিবরণ নিচে টেবিলের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:
| ক্যাটাগরি | সুনির্দিষ্ট বিবরণ ও তথ্য |
| ভুক্তভোগীর পরিচয় | ষাটোর্ধ্ব নারী (পেশায় ভিক্ষুক)। |
| ঘটনার তারিখ ও স্থান | ৩০ মে, ২০২৬; দক্ষিণ তেওতা এলাকার তৈয়বের বাঁশঝাড়, শিবালয়, মানিকগঞ্জ। |
| মূল অভিযুক্ত ও অপরাধ |
১. আশরাফুল (২৬), দক্ষিণ তেওতা ২. রবিন ওরফে সোহেল রানা (২৭), দক্ষিণ তেওতা (অপরাধ: সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, মারধর ও চেইন ছিনতাই) |
| সহযোগী অভিযুক্ত ও অপরাধ |
নিতাই চন্দ্র পাল (৪৫), স্বর্ণ ব্যবসায়ী, তেওতা বাজার (অপরাধ: চোরাই বা ছিনতাইকৃত মালামাল ক্রয়) |
| ছিনতাইকৃত মালামাল | ১ ভরি ১৪ আনা ওজনের একটি রুপার চেইন (পুলিশ কর্তৃক উদ্ধারকৃত)। |
| আইনি ব্যবস্থা | শিবালয় থানায় মামলা দায়ের এবং আসামিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ। |



