’শেখ হাসিনাই আমার ক্যাপ্টেন, তিনি যেভাবে বলবেন সেভাবেই চলব।’—রয়টার্সকে দেওয়া এক বিস্ফোরক সাক্ষাৎকারে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান পরিষ্কার করলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটের বরপুত্র ও ইতিহাসের সর্বকালের সেরা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান। দীর্ঘ দুই বছরের বেশি সময় ধরে নির্বাসন শেষে দেশে ফিরতে চান সাকিব, তবে স্বাভাবিকভাবে না পারলে শেখ হাসিনার সঙ্গেই একমঞ্চে ফেরার ইঙ্গিত দিলেন এই অলরাউন্ডার।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অনেকেই পথ বদলেছেন, কিন্তু সাকিবের বার্তা স্পষ্ট। আওয়ামী লীগ কিংবা শেখ হাসিনার সঙ্গ ছাড়লে দেশে ফেরার পথ সহজ হতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে সাকিব সরাসরি তা নাকচ করে দিয়েছেন। জানিয়েছেন, ‘ক্যাপ্টেনের’ নির্দেশ অমান্য করে রাজনৈতিক অবস্থান বদলানোর কোনো প্রশ্নই ওঠে না।
দেশে ফিরে আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন সাকিব। তবে তাঁর বিরুদ্ধে করা হত্যা মামলাগুলোকে ‘হাস্যকর’ বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি। যে ঘটনার কথা বলে মামলাটি করা হয়েছে, সেই সময় সাকিব ছিলেন দেশের হাজার হাজার মাইল দূরে কানাডায় গ্লোবাল টি-টোয়েন্টি লিগ খেলতে। আন্দোলন বা অপ্রীতিকর ঘটনার বহু আগেই বিদেশে থাকা একজন আন্তর্জাতিক অ্যাথলেটের বিরুদ্ধে এমন ‘অদ্ভুতুড়ে’ হত্যা মামলা আন্তর্জাতিক আঙিনায় দেশের আইনি কাঠামোর চরম অপপ্যবহার ও দেউলিয়াত্বকেই তুলে ধরে।
এদিকে সরকারের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, সাকিবকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। কিন্তু প্রশ্ন ওঠে, যে মামলাগুলো প্রথম দৃশ্যেই ভিত্তিহীন ও কাল্পনিক, সে বিষয়ে কথা না বলে কেন একজন জাতীয় তারকাকে দেশে ফিরতে বাধা দেওয়া হচ্ছে? সরকারের এই অবস্থান কি আইনি নাকি সাকিবের বিপুল রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাবের ভয়?
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের অন্যতম সেরা তারকা যখন নিজ দেশে একটি বিদায়ী ম্যাচ খেলার অধিকার এবং নিরাপত্তা চান, তখন মিথ্যা মামলার অজুহাতে তাঁকে দূরে ঠেলে দেওয়া কতটা যৌক্তিক? রাজনীতি বনাম মাঠের খেলা—এই দ্বন্দ্বে শেষ পর্যন্ত জয় কার হবে, তা সময়ই বলে দেবে।



