মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে অগ্রণী ব্যাংকের শাখা থেকে গ্রাহকদের বিপুল অর্থ আত্মসাৎ ও জালিয়াতির ঘটনায় সাবেক দুই শাখা ব্যবস্থাপকসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানে সহযোগিতা ও চলমান মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে শ্রীনগর থানা-পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন—অগ্রণী ব্যাংক শ্রীনগর শাখার সাময়িক বরখাস্তকৃত ক্যাশ কর্মকর্তা মো. জিন্নাহ হোসেন, সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক ও সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার রেজাউল হক, সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক ও প্রিন্সিপাল অফিসার মো. শরীফ উদ্দীন, নিরাপত্তা প্রহরী রঞ্জু আহম্মেদ এবং সাময়িক বরখাস্তকৃত নিরাপত্তা প্রহরী আব্দুল হাই। এই ঘটনায় মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ছয়জনে।
এর আগে আমানতকারীদের অর্থ আত্মসাতের প্রধান কারিগর এবং ওই শাখার রেমিট্যান্স কর্মকর্তা মো. শরীফুজ্জামান সোহাগকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেপ্তার করে। জালিয়াতির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সোহাগ গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে আত্মগোপনে ছিলেন। পরে ৩০ সেপ্টেম্বর ঢাকার মিরপুরের মধ্য পাইকপাড়ায় বোনের বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই সময় তাঁর কাছ থেকে নগদ ১ লাখ ৪৫ হাজার ২০০ টাকা, তিনটি মুঠোফোন, চেকবই, দুটি এটিএম কার্ড এবং ব্যাংকের ভল্ট বা লকারের একটি চাবি উদ্ধার করা হয়।
ভুক্তভোগী গ্রাহকদের লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত রেমিট্যান্স কর্মকর্তা শরীফুজ্জামান সোহাগ কাউন্টারে টাকা জমা দেওয়ার সময় গ্রাহকদের ব্যাংকের সিলযুক্ত জমার রসিদ বুঝিয়ে দিতেন। তবে সেই টাকা ব্যাংকের মূল অনলাইন হিসাবে জমা না করে নিজের কাছে রেখে দিতেন। আবার অনেক সাধারণ গ্রাহকের অজান্তেই ভুয়া স্বাক্ষর ও জালিয়াতির মাধ্যমে তাঁদের হিসাব থেকে মোটা অঙ্কের টাকা তুলে নেওয়া হতো। গত ২৭ সেপ্টেম্বর প্রতারণার বিষয়টি সাধারণ আমানতকারীদের মধ্যে জানাজানি হলে শাখায় চাঞ্চল্য ও চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা পাওনা টাকার দাবিতে ব্যাংকে ভিড় করতে শুরু করেন। ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৩০০ জন গ্রাহক শাখা ব্যবস্থাপক ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এসব লিখিত অভিযোগে আত্মসাৎ হওয়া আমানতের মোট দাবি ২৫ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়।
ঘটনাটি সামাজিকভাবে বড় আলোড়ন সৃষ্টি করলে অগ্রণী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাদের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা দল গঠন করে তদন্ত শুরু করে। প্রাথমিক তদন্তে অসদাচরণ ও গাফিলতির প্রমাণ পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। একই সঙ্গে সমন্বিত অপরাধ খতিয়ে দেখতে দুর্নীতি দমন কমিশন ছায়া তদন্ত শুরু করে। প্রধান আসামি শরীফুজ্জামানকে ইতোমধ্যে দুদকের দায়ের করা মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়েছে।
ঘটনার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করে দুদক প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মাহাথীর মুহাম্মদ সামী জানান, সাধারণ আমানতকারীদের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও অনুসন্ধানে প্রাথমিক সত্যতা মেলার পরই শ্রীনগর থানা-পুলিশের প্রত্যক্ষ সহায়তায় এই পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুযায়ী নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
অন্যদিকে শ্রীনগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিল্টন দত্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিজ্ঞ আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। ভুক্তভোগীদের খোয়া যাওয়া অর্থ উদ্ধারের বিষয়টি ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ অডিট এবং দুদকের চলমান আইনি তদন্তের মাধ্যমে সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করা হবে।


