মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে মাত্র ৯ বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীকে দীর্ঘদিন ধরে মারধর ও পাশবিক নির্যাতনের অভিযোগে রাকিবুল হাসান মিরাজ নামে এক মাদ্রাসা শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগী শিশুটিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
গত রোববার বিকেলে শ্রীমঙ্গল পৌর শহরের সিন্দুরখান সড়ক এলাকায় অবস্থিত ‘জামিয়া ইসলামিয়া বালক-বালিকা মাদ্রাসা’ থেকে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া রাকিবুল হাসান মিরাজ উপজেলার সুনগইড় গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত শিক্ষক হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।
পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পারিবারিক সূত্র জানায়, শিক্ষক রাকিবুল হাসান গত প্রায় এক মাস ধরে ওই শিশুটির ওপর পাশবিক ও শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। অনৈতিক কাজের মাধ্যমে তিনি দীর্ঘদিন ধরে শিশুটিকে লাঞ্ছিত করেন। বারবার এমন পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে শিশুটি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে এবং গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। সবশেষ রোববার সকালে ওই শিক্ষক শিশুটিকে আবারও অনৈতিক নির্দেশ দিলে শিশুটি তা করতে অস্বীকৃতি জানায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শিক্ষক রাকিবুল শিশুটিকে এলোপাতাড়ি ও বেদড়ক মারধর করেন।
পরে মারধরের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়া শিশুটি পুরো বিষয়টি তার পরিবারকে জানায়। অবুঝ সন্তানের মুখে এ নির্মম নির্যাতনের ঘটনা শুনে স্বজনরা সঙ্গে সঙ্গে শ্রীমঙ্গল থানায় যান এবং একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। খবর পেয়েই শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশের একটি দল সিন্দুরখান সড়কের ওই মাদ্রাসায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ভুক্তভোগী শিশুটির শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করে শরীরে আঘাত ও নির্যাতনের একাধিক ক্ষত দেখতে পান। বর্তমানে শিশুটিকে শারীরিক ও মানসিক ট্রমা থেকে কাটিয়ে তোলার জন্য স্থানীয় সরকারি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ভুক্তভোগী শিশুকে শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে এবং তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে নির্যাতনের প্রাথমিক আলামত পাওয়া গেছে। থানায় এনে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত শিক্ষক রাকিবুল তার বিরুদ্ধে ওঠা অপরাধের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। এই ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানোর আইনি প্রক্রিয়া চলছে।


