রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় চলন্ত রিকশা থেকে ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার সময় রাস্তায় পড়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মোসা. রনজিনা পারভীন (৫০) নিহত হওয়ার ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারীসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। এ সময় ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিও জব্দ করা হয়েছে।
রোববার (৩০ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে র্যাব। বাহিনীটি জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া প্রধান সন্দেহভাজনের নাম মো. পনি ওরফে পনি। তাঁর সঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়া অপর ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
ঘটনার সূত্রপাত শনিবার (২৯ আগস্ট) ভোর সাড়ে ছয়টার দিকে। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা সংলগ্ন সড়কে রিকশায় করে ফার্মগেটের দিকে যাচ্ছিলেন রনজিনা পারভীন। তিনি বগুড়ার বাগবাড়ী বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পরিবার ও র্যাব সূত্রে জানা গেছে, চোখের চিকিৎসার জন্য শনিবার ভোরে বগুড়া থেকে বাসে ঢাকায় আসেন রনজিনা। গাবতলীতে পৌঁছানোর পর সেখান থেকে রিকশায় করে ফার্মগেটের ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা দেন তিনি।
রিকশাটি সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনে পৌঁছালে পেছন দিক থেকে একটি মোটরসাইকেলে করে ছিনতাইকারীরা এগিয়ে আসে। মোটরসাইকেলে থাকা ব্যক্তিরা রনজিনার হাতে থাকা ভ্যানিটি ব্যাগ ধরে টান দেন। আকস্মিক ও জোরালো টানে ভারসাম্য হারিয়ে চলন্ত রিকশা থেকে পাকা সড়কে ছিটকে পড়েন তিনি।
পড়ে গিয়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান রনজিনা। তাঁর মাথা থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। পরে পথচারীরা তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তৎপরতা শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তেজগাঁও বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার ইবনে মিজান এর আগে জানিয়েছিলেন, ছিনতাইকারীদের শনাক্ত করতে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
সেই ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-২ অভিযান চালিয়ে পনি ও তাঁর এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে। একই অভিযানে ছিনতাইয়ের ঘটনায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিও জব্দ করা হয়।
রনজিনা পারভীনের মৃত্যুতে তাঁর পরিবার ও কর্মস্থলে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। চোখের চিকিৎসার জন্য বগুড়া থেকে ঢাকায় এসে ছিনতাইকারীদের আকস্মিক হামলার শিকার হয়ে তাঁর প্রাণহানি রাজধানীর সড়কে ছিনতাইয়ের ঝুঁকি নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, সে বিষয়েও তদন্ত চলছে।



