কণ্ঠ যখন কবিতার ভাষা হয়ে ওঠে, শব্দ যখন ছুঁয়ে যায় মানুষের হৃদয়ের গভীরতম অনুভব—তখন একজন আবৃত্তিশিল্পী কেবল শিল্পী থাকেন না, হয়ে ওঠেন সময় ও সমাজের এক নীরব অথচ শক্তিশালী কণ্ঠস্বর। আহকাম উল্লাহ তেমনই একজন শিল্পী—যাঁর কণ্ঠে কবিতা প্রাণ পায়, উচ্চারণে জেগে ওঠে মানবিকতা, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও মুক্তির আকাঙ্ক্ষা।
দেশের শিল্প-সংস্কৃতি অঙ্গনের অতি পরিচিত ও নন্দিত মুখ, বিশিষ্ট আবৃত্তিশিল্পী আহকাম উল্লাহ খান আজ তাঁর জীবনের আরেকটি নতুন বছরে পদার্পণ করছেন।
জন্ম: ৩০ আগস্ট ১৯৭০।
তাঁর পুরো নাম আবুল ফাৎহা মোঃ আহকাম উল্লাহ ইমাম খান। ডাকনাম—আমল।
তাঁর পিতা মোঃ আলী ইমাম খান ছিলেন বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক এএসপি এবং মা সুফিয়া ইমাম। ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সেন্ট গ্রেগরিজ স্কুল ও নটরডেম কলেজ-এর পাঠ শেষে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে সম্মানসহ স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
শিক্ষাজীবনের সেই ভিত্তি তাঁকে কেবল প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞানেই সমৃদ্ধ করেনি; বরং পরবর্তী জীবনে শিল্প, সংস্কৃতি, সমাজ ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে তাঁর চিন্তা ও দায়িত্ববোধকে করেছে আরও পরিণত ও দৃঢ়।
দীর্ঘদিন ধরে তিনি সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘স্বরশ্রুতি’-এর নেতৃত্ব দিয়েছেন। আবৃত্তিকে ভালোবাসার শিল্প থেকে মানুষের চেতনা জাগানোর শক্তিতে রূপ দেওয়ার যে নিরন্তর প্রয়াস—তাঁর দীর্ঘ সাংস্কৃতিক পথচলায় তারই প্রতিফলন দেখা যায়।
বর্তমানে তিনি সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আবৃত্তিশিল্পী হাসান আরিফের মৃত্যুর পর সর্বসম্মতিক্রমে তিনি এই দায়িত্বে আসীন হন। পাশাপাশি বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও তিনি সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করে চলেছেন।
শিল্পের পাশাপাশি সমাজ ও রাষ্ট্রচিন্তাতেও তাঁর রয়েছে সুস্পষ্ট অবস্থান। তাঁর অন্যতম লক্ষ্য—একটি অসাম্প্রদায়িক, মানবিক ও প্রগতিশীল বাংলাদেশ নির্মাণ এবং সংস্কৃতি খাতে রাষ্ট্রীয় বাজেট ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা।
সংস্কৃতির প্রতি তাঁর দীর্ঘদিনের অবদান স্বীকৃত হয়েছে নানা পুরস্কার ও সম্মাননায়। প্রকাশিত হয়েছে তাঁর একাধিক আবৃত্তির অ্যালবাম। তাঁর কণ্ঠের উচ্চারণে কবিতার শব্দ যেমন পেয়েছে প্রাণ, তেমনি তাঁর সাংগঠনিক ভূমিকা দেশের সাংস্কৃতিক আন্দোলনকেও করেছে আরও গতিশীল।
শিল্প ও সংস্কৃতির জগতের পাশাপাশি তিনি একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীও। বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করে তিনি তাঁর বহুমাত্রিক কর্মজীবনের আরেকটি পরিচয়ও প্রতিষ্ঠা করেছেন।
তবে সব পরিচয় ছাপিয়ে তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয়—
তিনি একজন সংস্কৃতিসেবী, একজন আবৃত্তিশিল্পী এবং অসাম্প্রদায়িক মানবিক সমাজের স্বপ্নদ্রষ্টা।
আজ তাঁর জন্মদিনে তাই শুধু ফুলেল শুভেচ্ছা নয়, জানাই গভীর ভালোবাসা ও আন্তরিক অভিনন্দন।
কবিতার শব্দে আরও বহুদিন উচ্চারিত হোক মানুষের কথা,
আপনার কণ্ঠে জেগে উঠুক দ্রোহ, প্রেম ও মানবতার গান।
সংস্কৃতির অঙ্গনে আপনার পথচলা হোক আরও দীপ্ত, আরও দীর্ঘ।
জীবনের প্রতিটি আগামী দিন ভরে উঠুক সাফল্য, সুস্বাস্থ্য, আনন্দ ও ভালোবাসায়।
শুভ জন্মদিন, প্রিয় আহকাম উল্লাহ।
আপনার কণ্ঠে কবিতা আরও বহুদিন
মানুষের হৃদয়ে আলো জ্বালুক,
অসাম্প্রদায়িকতার স্বপ্ন বুনুক,
আর সংস্কৃতির পতাকা উড়ুক আরও উঁচুতে।
জন্মদিনের নিখাদ শুভেচ্ছা ও নিরন্তর শুভকামনা।
শুভ হোক আপনার আগামী, সুন্দর হোক প্রতিটি প্রহর।



