ইতালির ফুটবলে শুরু হতে যাচ্ছে নতুন এক অধ্যায়। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী সান সিরো স্টেডিয়ামের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন নতুন ভেন্যুতে পাড়ি জমাতে যাচ্ছে এসি মিলান ও ইন্টার মিলান। দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত হতে যাওয়া স্টেডিয়ামটির নাম রাখা হয়েছে ‘জেনেরালি স্টেডিয়াম’। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩১-৩২ মৌসুম থেকে নতুন এই মাঠে নিজেদের ম্যাচ আয়োজন করবে ক্লাব দুটি।
সম্প্রতি এক যৌথ বিবৃতিতে নতুন স্টেডিয়ামের নাম ও নকশা প্রকাশ করেছে এসি মিলান এবং ইন্টার মিলান। ৭১ হাজার ৫০০ দর্শক ধারণক্ষমতার স্টেডিয়ামটির নকশা তৈরি করেছে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান ফস্টার অ্যান্ড পার্টনার্স ও মানিকা। আধুনিক স্থাপত্যশৈলী এবং আন্তর্জাতিক ফুটবলের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নির্মাণ করা হবে নতুন এই ক্রীড়া অবকাঠামো।
স্টেডিয়ামটির নামকরণ স্বত্ব পেয়েছে ইতালির বীমা প্রতিষ্ঠান জেনেরালি। ইএসপিএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে ২০ বছরের চুক্তি হয়েছে, যার আর্থিক মূল্য ৬৫০ মিলিয়ন ইউরো। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৮ হাজার ৯৯১ কোটি টাকা। ক্রীড়াঙ্গনে স্টেডিয়ামের নামকরণ স্বত্বের ক্ষেত্রে এটিকে অন্যতম বড় চুক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
প্রকল্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ সালে নতুন স্টেডিয়ামের নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় অনুমোদন পেতে হবে। সবকিছু পরিকল্পনামাফিক এগোলে ২০৩১-৩২ মৌসুমে নতুন মাঠে প্রথম ম্যাচ আয়োজন করবে ক্লাব দুটি। অর্থাৎ, নির্মাণকাজ শুরুর পর কয়েক বছরের মধ্যেই নিজেদের নতুন ঠিকানায় খেলার সুযোগ পাবে দুই মিলানভিত্তিক ক্লাব।
নতুন স্টেডিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ঐতিহাসিক সান সিরোর বিদায়। ক্লাব দুটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন ভেন্যু চালুর জন্য বর্তমান স্টেডিয়ামটি ভেঙে ফেলা হবে। ফলে প্রায় এক শতাব্দীর ফুটবল ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এই মাঠের অধ্যায় শেষ হতে যাচ্ছে।
১৯২৬ সালে উদ্বোধনের পর থেকে সান সিরো ইতালির ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভেন্যু হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এসি মিলান ও ইন্টার মিলান—দুই ক্লাবই দীর্ঘদিন ধরে এই মাঠকে নিজেদের হোম ভেন্যু হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। ইতালির ঘরোয়া প্রতিযোগিতার পাশাপাশি ইউরোপীয় ফুটবলের অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের সাক্ষী হয়েছে স্টেডিয়ামটি।
বিশেষ করে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি লড়াই ‘মিলান ডার্বি’ সান সিরোকে বিশ্বজুড়ে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে। একই মাঠে দুই দলের সমর্থকদের উপস্থিতি, গ্যালারির উত্তেজনা এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচগুলো ফুটবলপ্রেমীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করেছে। তাই স্টেডিয়ামটি কেবল খেলার জায়গা নয়, বরং মিলানের ফুটবল সংস্কৃতি ও সমর্থকদের আবেগেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তবে সময়ের সঙ্গে ফুটবলের অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত চাহিদা বদলেছে। আধুনিক স্টেডিয়ামে দর্শকদের উন্নত সুযোগ-সুবিধা, বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং ম্যাচের বাইরেও আয় বাড়ানোর সুযোগকে এখন বড় ক্লাবগুলো গুরুত্ব দিচ্ছে। এসি মিলান ও ইন্টার মিলানের নতুন স্টেডিয়াম প্রকল্পও সেই পরিবর্তিত বাস্তবতার অংশ।
সান সিরো ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত দুই ক্লাবের সমর্থকদের জন্য আবেগের হলেও নতুন স্টেডিয়ামকে ঘিরে রয়েছে ভবিষ্যতের বড় প্রত্যাশা। প্রকল্পটি নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বাস্তবায়িত হলে ইতালির ফুটবলে আধুনিক অবকাঠামোর নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে জেনেরালি স্টেডিয়াম। একই সঙ্গে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবের দীর্ঘদিনের যৌথ ভেন্যু ব্যবহারের ইতিহাসও নতুন এক ঠিকানায় এগিয়ে যাবে।


