মৌসুমি বায়ুর প্রবল দাপটে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আগামী পাঁচ দিন টানা বৃষ্টিপাত ও অস্থায়ী দমকা হাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থানরত স্থল নিম্নচাপ এবং বঙ্গোপসাগরে মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে অতিভারি বর্ষণের সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
আগামী ৫ দিনের আবহাওয়ার বিস্তারিত পূর্বাভাস
| তারিখ ও সময় (সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা) | বিস্তৃত বৃষ্টিপাত (অনেক জায়গা) | বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাত (কিছু কিছু জায়গা) | বিশেষ সতর্কতা | তাপমাত্রা |
| ১৮ আগস্ট (মঙ্গলবার) | খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, সিলেট | রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা | মাঝারি থেকে অতিভারি বর্ষণ | সামান্য বাড়তে পারে |
| ১৯ আগস্ট (বুধবার) | রংপুর, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম, সিলেট | রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা | মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণ | প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে |
| ২০ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) | রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ, খুলনা, চট্টগ্রাম, সিলেট | ঢাকা, বরিশাল | মাঝারি থেকে অতিভারি বর্ষণ | সামান্য বাড়তে পারে |
| ২১ আগস্ট (শুক্রবার) | রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, সিলেট | রাজশাহী, খুলনা | মাঝারি থেকে অতিভারি বর্ষণ | প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে |
| ২২ আগস্ট (শনিবার) | রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, সিলেট | রাজশাহী, বরিশাল, চট্টগ্রাম | মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণ | সামান্য বাড়তে পারে |
নিম্নচাপ ও মৌসুমি বায়ুর বর্তমান অবস্থা
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) আবহাওয়া অধিদপ্তরের সদর দপ্তর থেকে প্রকাশিত সর্বশেষ বুলেটিনে দেশের সার্বিক আবহাওয়ার এই চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, ভারতের ঝাড়খণ্ড ও এর কাছাকাছি এলাকায় অবস্থানরত স্থল নিম্নচাপটি ধীরে ধীরে পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। আবহাওয়ার গাণিতিক মডেল অনুযায়ী, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এটি আরও অগ্রসর হয়ে শক্তি হারিয়ে একটি সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।
মৌসুমি বায়ুর বিস্তৃতি নিয়েও বিস্তারিত জানিয়েছে সংস্থাটি। মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ ভারতের রাজস্থান, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, বিহার ও এই স্থল নিম্নচাপের কেন্দ্রস্থল পার হয়ে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল ছুঁয়ে ভারতের আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর প্রত্যক্ষ প্রভাবে সমগ্র বাংলাদেশের ওপর মৌসুমি বায়ু এখন অত্যন্ত সক্রিয় অবস্থায় বিরাজ করছে। বিশেষ করে উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় এটি প্রবল আকার ধারণ করেছে।
জনজীবন, তাপমাত্রা ও সার্বিক প্রভাব
পাঁচ দিনের (১২০ ঘণ্টা) এই পূর্বাভাস গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দেশের প্রায় প্রতিটি বিভাগেই আগামী কয়েক দিন কমবেশি বৃষ্টির দাপট অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় অতিভারি বর্ষণের কারণে ভূমিধসের প্রবল ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে, ঢাকা বা চট্টগ্রামের মতো জনবহুল বড় শহরগুলোতে টানা বৃষ্টিতে মারাত্মক জলাবদ্ধতা ও তীব্র যানজট সৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে, যা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে থমকে দিতে পারে।
উত্তর বঙ্গোপসাগরে মৌসুমি বায়ু প্রবল থাকায় উপকূলীয় অঞ্চলে প্রতিনিয়ত ঘন মেঘমালার সৃষ্টি হচ্ছে। দমকা হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় জেলেদের মাছ ধরার ট্রলার ও ছোট নৌযানগুলোকে গভীর সাগরে না গিয়ে উপকূলের কাছাকাছি সাবধানে চলাচল করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
টানা বৃষ্টির কারণে দেশজুড়ে দিন ও রাতের তাপমাত্রায় খুব বড় কোনো পরিবর্তন আসবে না। তবে বাতাসে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প থাকায় বৃষ্টিহীন সময়ে কিছুটা অস্বস্তিকর ভ্যাপসা গরম অনুভূত হতে পারে। কৃষিখাতের জন্য, বিশেষ করে আমন ধানের এই মৌসুমে, এমন টানা বৃষ্টিপাত আশীর্বাদ বয়ে আনবে। তবে শহরের খেটে খাওয়া দিনমজুর এবং প্রাত্যহিক কাজে বের হওয়া যাত্রীদের জন্য এটি চরম ভোগান্তির কারণ হতে পারে। সম্ভাব্য জলজট পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে আগে থেকেই সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

