খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 10শে মাঘ ১৪৩২ | ২৩ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে গভীর রাতে পুলিশের বিশেষ ব্লক রেইড অভিযানে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ছয়জন ডাকাতসহ মোট আটজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র, ডাকাতির সরঞ্জাম ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশের ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার দিবাগত রাতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার একটি চৌকস দল চিত্তরঞ্জন ঘাট ও মাঝিপাড়া এলাকায় ব্লক রেইড শুরু করে। অভিযানের একপর্যায়ে আরামবাগ এলাকার চিত্তরঞ্জন ঘাট সংলগ্ন বড় পুকুরের পূর্ব পাড়ে কাঠগাছের বাগানের ভেতর কয়েকজনকে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালানোর চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে ছয়জনকে আটক করা হয়। একই রাতে পৃথক আরেকটি অভিযানে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. মহিন (২৯), মো. সজিব (২৮), মো. রনি (৩০), মো. বাবু (৩০), মো. হাসান (২০), ইমন (২৫), শামীম (৩৩) ও জসিম (৩৮)। তাদের অধিকাংশই সিদ্ধিরগঞ্জের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা এবং পূর্বে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে বলে পুলিশ জানায়।
তল্লাশি চালিয়ে গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় একটি চাপাতি, একাধিক সুইচ গিয়ার, বড় ছুরি, দ্বিধারী কুড়াল, করাত, লোহার রড, এসএস পাইপসহ নানা ধরনের ধারালো ও আঘাতকারী অস্ত্র। পাশাপাশি মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে তাদের কাছ থেকে ১০০ পুরিয়া হেরোইন এবং ৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের ধারণা, ডাকাতির পাশাপাশি তারা মাদক ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত ছিল।
নিম্নে উদ্ধারকৃত আলামতের সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরা হলো—
| উদ্ধারকৃত সামগ্রী | পরিমাণ |
|---|---|
| চাপাতি | ১টি |
| বড় ছুরি ও সুইচ গিয়ার | একাধিক |
| দ্বিধারী কুড়াল | ১টি |
| করাত | ১টি |
| লোহার রড ও এসএস পাইপ | একাধিক |
| হেরোইন | ১০০ পুরিয়া |
| ইয়াবা ট্যাবলেট | ৫০ পিস |
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বারিক জানান, এ ঘটনায় থানার উপপরিদর্শক গাজী মাহতাব উদ্দিন বাদী হয়ে গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলাগুলোতে ডাকাতির প্রস্তুতি, অবৈধ অস্ত্র বহন এবং মাদক আইনের বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “এ চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত চলবে।”
পুলিশের এ তৎপরতায় স্থানীয় বাসিন্দারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এবং ভবিষ্যতেও এমন অভিযান জোরদার রাখার দাবি জানিয়েছেন।