চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত মো. মনসুর (৫০) নামের এক রাজনৈতিক কর্মী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তিনি স্থানীয় পর্যায়ে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন আগে উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের গোলাবাড়িয়া এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। সেই সংঘাতের সময় একদল দুর্বৃত্ত মনসুরকে লক্ষ্য করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে ফেলে রেখে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। সেখানে দীর্ঘ সময় নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকার পর অবশেষে মৃত্যুর কাছে হার মানেন তিনি। নিহত মনসুর সীতাকুণ্ডের মুরাদপুর ইউনিয়নের গোলাবাড়িয়া এলাকার খলিল ভূঁইয়া বাড়ির মৃত সালামত উল্লাহ ওরফে জুনুর ছেলে।
চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিনুল ইসলাম জানান, এলাকায় আগের একটি অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও দুই পক্ষের মারামারির জেরে এই সহিংসতার সূত্রপাত হয়। হামলার দিন গুরুতর জখম অবস্থায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসারত অবস্থায় মঙ্গলবার তার জীবনাবসান ঘটে।
ঘটনার পরপরই নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। হামলার পেছনে যুক্তদের চিহ্নিত করতে কাজ করছে পুলিশ। ওসি আরও জানান, এজাহারে নাম থাকা আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের বিশেষ টিম সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন সম্ভাব্য আস্তানায় সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনসহ নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
সাধারণত রাজনৈতিক পটপরিবর্তন কিংবা স্থানীয় জমিজমা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই অঞ্চলে আগে থেকেই নানা উত্তেজনা বিদ্যমান ছিল। সীতাকুণ্ডের মুরাদপুর ও গোলাবাড়িয়া এলাকার বাসিন্দারা এ ধরনের হামলায় আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুততম সময়ে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন, যাতে এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় থাকে এবং সহিংসতা আর না বাড়ে।


