বাংলাদেশে যেমন তরুণ ব্যাটারদের উত্থান আনন্দের, তেমনি ভারতে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ঋতুরাজ গায়কোয়াড। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে দেখালেন তাঁর সামর্থ্যের ঝলক। ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরিতে তিনি শুধু নিজের অবস্থানই মজবুত করলেন না, ভারতেরও রানের ভিত্তি তৈরি করে দিলেন।
ইনিংসের শুরুতে যদিও ভারত পড়ে যায় চাপে। দুই উইকেট হারিয়ে মাত্র ৬৫ রান তুলতে পারে দল। চাপ বাড়ছিল প্রতিটি বলে। তখনই এগিয়ে আসেন ঋতুরাজ। সময় নিয়ে ক্রিজে সেট হওয়ার পর তিনি খুঁজে পান ছন্দ। শট নির্বাচন, টাইমিং, স্ট্রাইক রোটেশন—সব মিলিয়ে তিনি ভারতীয় দর্শকদের মনে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনেন।
ঋতুরাজের সঙ্গে বিরাট কোহলির জুটি সবকিছু বদলে দেয়। ১৯৫ রানের জুটি শুধু ভারতের স্কোরই বড় করেনি, দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের ওপরও বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে। ৭৭ বলে সেঞ্চুরি করে ঋতুরাজ জানান দেন—এটাই তাঁর সময়। তিনি আউট হওয়ার আগে করেন ১০৫ রান, মাত্র ৮৩ বলে।
এর আগে টি-টোয়েন্টিতে একটি সেঞ্চুরি ছিল তাঁর। এবার ওয়ানডেতে বড় ইনিংস খেলে প্রমাণ করলেন—তিনি যে শুধু আইপিএল তারকা নন, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তাঁর আছে বিশাল সম্ভাবনা।
কোহলি ১০২ রানের ইনিংস খেলে দলকে আরও এগিয়ে নেন। তাঁর অভিজ্ঞতা, শান্ত মনোভাব, ম্যাচ পড়ার ক্ষমতা—সবই ভারতের ইনিংসকে আরও শক্ত করে তোলে।
সিরিজের প্রথম ম্যাচেই ৩৪৯ রান করে ১৭ রানে জেতা ভারত দ্বিতীয় ম্যাচেও বিশাল সংগ্রহের সম্ভাবনা তৈরি করে। ঋতুরাজ-কোহলি জুটির ব্যাটিং ছিল এই ইনিংসের মেরুদণ্ড।
রায়পুরের গ্যালারিতে ভারতীয় সমর্থকদের আনন্দ ছিল চোখে পড়ার মতো। সবার মুখে একটাই প্রশ্ন—এ কি ভারতের ব্যাটিংয়ের নতুন যুগের সূচনা?



