দেশে হামের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৯৭ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে আরও ১৩১ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।
রোববার (২৩ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হামের পরিস্থিতিবিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, গত ১৫ মার্চ থেকে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৩৪ জনে। একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আরও ৯৯ জন। দুই ধরনের মৃত্যুর হিসাব একত্র করলে মোট প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়ায় ৯৩৩ জনে।
তবে এই দুই শ্রেণির তথ্য আলাদাভাবে দেখার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া প্রত্যেক শিশুর ক্ষেত্রে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম নিশ্চিত হয়েছে—এমন নয়। অন্যদিকে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা নির্ধারিত হয়েছে পরীক্ষায় সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার ভিত্তিতে। ফলে স্বাস্থ্য পরিস্থিতি মূল্যায়নের ক্ষেত্রে উপসর্গজনিত ও নিশ্চিত সংক্রমণের তথ্য আলাদাভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৩১ জনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে। এতে ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে নিশ্চিতভাবে শনাক্ত হামের মোট রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৮ হাজার ৪০৪ জন।
অন্যদিকে একই সময়ে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ১ হাজার ৯৭ জনের শরীরে। ফলে ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে রিপোর্ট হওয়া মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৫০৩ জনে। অর্থাৎ, উপসর্গের ভিত্তিতে শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা নিশ্চিত হামে আক্রান্ত রোগীর তুলনায় অনেক বেশি।
হামের বিস্তারের প্রভাব সবচেয়ে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যায়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ১ লাখ ৩০ হাজার ৬০৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ১ লাখ ২৫ হাজার ৭৭৫ জন।
প্রদত্ত হিসাব অনুযায়ী, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পাওয়া রোগীর সংখ্যা মোট ভর্তির তুলনায় বেশির ভাগ। তবে একই সময়ে নতুন রোগী শনাক্ত হওয়া এবং মৃত্যুর ঘটনা অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতির ওপর নজরদারি ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার গুরুত্বও বাড়ছে।
হাম সাধারণত শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা গেলেও এর বিস্তার ঠেকাতে আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্ত করা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া এবং সংক্রমণের ঝুঁকি কমানোর ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করা প্রয়োজন।
বর্তমান প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, গত ১৫ মার্চ থেকে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গ ও নিশ্চিত সংক্রমণ—দুই ক্ষেত্রেই আক্রান্ত ও হাসপাতালে ভর্তি মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে রয়েছে। এর সঙ্গে মৃত্যুর ধারাবাহিকতা পরিস্থিতিটিকে আরও উদ্বেগের করে তুলেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত পরিস্থিতি প্রতিবেদন তাই হামের বিস্তার, নতুন রোগী শনাক্ত এবং মৃত্যুর প্রবণতা পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিচ্ছে।


