খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 30শে চৈত্র ১৪৩২ | ১৩ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) ২০২৬ আসরে সব দলই ইতিমধ্যে চারটি করে ম্যাচ খেলেছে। টুর্নামেন্টের এই পর্যায়ে এসে সাধারণত বোলারদের উইকেট শিকারের তালিকায় শীর্ষ নামগুলো নিয়ে আলোচনা হয়। তবে এবারের আসরে ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম প্রধান পেস অস্ত্র যশপ্রীত বুমরাকে নিয়ে তৈরি হয়েছে এক ভিন্নধর্মী আলোচনা। আইপিএলের দাপ্তরিক ওয়েবসাইট থেকে শুরু করে জনপ্রিয় ক্রিকেট পোর্টাল ইএসপিএনক্রিকইনফো বা ক্রিকবাজ—কোথাও এবারের উইকেটশিকারিদের তালিকায় বুমরার নাম খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এর কারণ প্রযুক্তিগত ত্রুটি নয়, বরং মাঠের পারফরম্যান্স; টুর্নামেন্টের চার ম্যাচ পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো উইকেটের দেখা পাননি এই ডানহাতি পেসার।
যশপ্রীত বুমরা এবারের আসরে মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের হয়ে ৪টি ম্যাচ খেলেছেন। গতকাল রাতে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে ১৮ রানে পরাজিত হওয়া ম্যাচেও তিনি কোনো উইকেট শিকার করতে পারেননি। এটি ছিল আইপিএলে বুমরার টানা পঞ্চম উইকেটশূন্য ম্যাচ। এই ধারার সূচনা হয়েছিল ২০২৫ সালের আইপিএল থেকে। গত আসরের দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে পাঞ্জাব কিংসের বিপক্ষে ৪ ওভারে ৪০ রান দিয়ে তিনি উইকেটহীন ছিলেন। সেই ম্যাচেও তার দল ৫ উইকেটে পরাজিত হয়েছিল। ফলে গত মৌসুমের শেষ ম্যাচ এবং চলতি মৌসুমের প্রথম চার ম্যাচ মিলিয়ে বুমরা এখন টানা ১২২ বল ধরে উইকেটের সন্ধানে রয়েছেন, যা তার আইপিএল ক্যারিয়ারের দীর্ঘতম উইকেট খরা।
এবারের আসরে এখন পর্যন্ত উইকেট না পাওয়া বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বল করার অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডটি বুমরার দখলে। তিনি ৪ ম্যাচে মোট ১৫ ওভার বা ৯০টি ডেলিভারি করেছেন, যার একটি থেকেও উইকেট আসেনি। এই তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা সানরাইজার্স হায়দরাবাদের হর্ষল প্যাটেল ৪৬টি ডেলিভারি করে উইকেটশূন্য রয়েছেন। বুমরা ও হর্ষলের মধ্যকার এই বিশাল ব্যবধান বুমরার উইকেটহীন থাকার গভীরতাকে স্পষ্ট করে তোলে।
নিচে ২০২৬ আইপিএলে যশপ্রীত বুমরার বোলিং পরিসংখ্যানের একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | পরিসংখ্যান |
| ম্যাচ সংখ্যা | ৪ |
| মোট ওভার | ১৫ |
| মোট রান প্রদান | ১২৩ |
| উইকেট | ০ |
| ইকোনমি রেট (বর্তমান আসর) | ৮.২০ |
| ক্যারিয়ার ইকোনমি রেট (আইপিএল) | ৭.২৭ |
| টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ার ইকোনমি | ৬.৯৩ |
বুমরার উইকেট না পাওয়া নিয়ে ক্রিকেট অঙ্গনে নানা আলোচনা চললেও ভারতের অভিজ্ঞ স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন বিষয়টিকে ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছেন। অশ্বিনের মতে, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বোলারকে শুধুমাত্র উইকেটের সংখ্যা দিয়ে বিচার করা উচিত নয়। বিশেষ করে মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামের মতো ব্যাটিং-সহায়ক মাঠে রান আটকে রাখা এবং নিখুঁত ইয়র্কার প্রদান করাও অনেক বড় সাফল্য।
অশ্বিন মনে করেন, উইকেট পাওয়ার বিষয়টি অনেক সময় বোলিং জুটির ওপর নির্ভর করে। এক প্রান্ত থেকে চাপ সৃষ্টি করা হলে অন্য প্রান্তের বোলার উইকেট পাওয়ার সুবিধা পান। বুমরা বর্তমানে মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের বোলিং ইউনিটে রান দেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে মিতব্যয়ী বোলার হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। চলতি আসরে তার ইকোনমি রেট ৮.২০, যা তার ক্যারিয়ার গড় ৭.২৭-এর চেয়ে কিছুটা বেশি হলেও মুম্বাইয়ের অন্যান্য বোলারদের তুলনায় সংগত।
অশ্বিনের ভাষ্যমতে, টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে বোলিং ইউনিটের মধ্যে সমন্বিতভাবে রক্ষণাত্মক বোলিং করার মানসিকতা এখনো পুরোপুরি গড়ে ওঠেনি। তাই বুমরা উইকেট না পেলেও তার করা প্রতিটি ডট বল এবং রানের গতি নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। তবে ভারতীয় জাতীয় দল এবং মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের প্রধান পেসার হিসেবে বুমরার এই উইকেট খরা সমর্থকদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। পরবর্তী ম্যাচগুলোতে এই অভিজ্ঞ পেসার ফর্মে ফিরতে পারেন কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।