খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৭ জুন ২০২৬
রাজশাহী মহানগরীর মতিহার থানা এলাকায় এক স্কুলছাত্রীকে প্রকাশ্য দিবালোকে ছুরিকাঘাত করে গুরুতরভাবে আহত করার একটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটেছে। এই সহিংস অপরাধের সাথে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে সামিউল সিরাজ (সিজান) নামে এক যুবককে দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে বোয়ালিয়া থানা পুলিশ। রবিবার, ৭ জুন রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া থানার টিকাপাড়া বাসার রোড এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ওই অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়। ঘটনার খবর পাওয়ার পর থেকে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে পদক্ষেপ গ্রহণ করায় স্থানীয় জনমানুষের মাঝে পুলিশের পেশাদার ভূমিকা প্রশংসিত হয়েছে।
তদন্ত ও ঘটনার বিবরণ থেকে জানা গেছে, রবিবার (৭ জুন) বেলা ১১টার দিকে এসএসসি পরীক্ষার্থী ওই নারী শিক্ষার্থী তার দুই বান্ধবীকে সাথে নিয়ে পায়ে হেঁটে নিজ বিদ্যালয়ের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছিল। তারা যখন মতিহার থানা এলাকার তালাইমারী প্রিন্সিপালপাড়া এলাকার ডায়মন্ড টাওয়ারের সামনে পৌঁছায়, ঠিক তখনই অভিযুক্ত যুবক সামিউল সিরাজ (সিজান) তাদের পথরোধ করে দাঁড়ায়। পথরোধ করার পর কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই পূর্ববিরোধের জের ধরে অভিযুক্ত যুবক তার কাছে থাকা অত্যন্ত ধারাল অস্ত্র দিয়ে ওই এসএসসি পরীক্ষার্থীকে লক্ষ্য করে উপর্যুপরি আঘাত করতে শুরু করে।
সামিউল সিরাজের এই অতর্কিত ও নৃশংস হামলায় আক্রান্ত নারী শিক্ষার্থীর হাত এবং পেটের একপাশে গভীর ও গুরুতর জখম হয়। ধারাল অস্ত্রের আঘাতে তার শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হতে শুরু করলে ঘটনাস্থলেই সে মারাত্মকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। অপরাধ সংঘটিত করার পরপরই অভিযুক্ত সামিউল সিরাজ (সিজান) ঘটনাস্থল থেকে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে পালিয়ে আত্মগোপন করে। এই চরম সংকটকালীন মুহূর্তে আক্রান্ত শিক্ষার্থীর সাথে থাকা দুই বান্ধবী অত্যন্ত সাহসিকতার পরিচয় দেয়। তারা তাৎক্ষণিকভাবে রক্তাক্ত ও আহত সহপাঠীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান এবং সেখানে তাকে দ্রুত ভর্তি করা হয়। বর্তমানে হাসপাতালটিতে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে ওই শিক্ষার্থীর চিকিৎসা কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
স্কুলছাত্রীর ওপর এমন প্রকাশ্য ও নৃশংস হামলার ঘটনার সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসে। রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের সম্মানিত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির পুরো বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেন এবং অপরাধীকে কোনো প্রকার ছাড় না দিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তারের জন্য আরএমপির একাধিক বিশেষ টিমকে মাঠে নামার কড়া নির্দেশনা প্রদান করেন।
পুলিশ কমিশনারের এই জরুরি ও কঠোর নির্দেশনার পরপরই বোয়ালিয়া থানা পুলিশ এবং মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক দল অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত করতে আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় একযোগে চিরুনি অভিযান শুরু করে। ফলশ্রুতিতে, ঘটনার মাত্র আড়াই ঘণ্টার মধ্যে একটি আভিযানিক দল বোয়ালিয়া থানার টিকাপাড়া বাসার রোড এলাকা থেকে মূল অভিযুক্ত সামিউল সিরাজ (সিজান)-কে অবরুদ্ধ করে সফলভাবে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে যে, প্রকাশ্য দিবালোকে সংঘটিত এই অপরাধের পরপরই আইন প্রয়োগকারী সংস্থা অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে মাঠে নেমেছিল। যার ফলে অত্যন্ত অল্প সময়ের ব্যবধানে মূল আসামিকে আইনের সুনির্দিষ্ট আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার মাত্র আড়াই ঘণ্টার মধ্যে মূল অভিযুক্তকে নিখুঁতভাবে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করায় পুলিশের তাৎক্ষণিক তৎপরতা ও কার্যকারিতা স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষের মাঝে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। মতিহার থানা পুলিশ জানিয়েছে, আক্রান্ত স্কুলছাত্রীর ওপর হামলার এই বর্বরোচিত ঘটনায় আরএমপির সংশ্লিষ্ট থানায় প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ সচল ও চলমান রয়েছে এবং আসামির বিরুদ্ধে যথাযথ ধারায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।