খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ইতালিতে ২০২৬–২০২৮ মেয়াদের তিন বছরব্যাপী শ্রমিক নিয়োগ কর্মসূচির প্রথম ধাপের ‘ক্লিক ডে’ সম্প্রতি সম্পন্ন হয়েছে। গত ১৮ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত এক লাখ ৬৪ হাজার ৮৫০ জন বিদেশি শ্রমিকের কোটায় বিভিন্ন খাতে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ শেষ হয়। তবে আগের বছরের তুলনায় এবার আবেদন প্রক্রিয়া আরও কঠোর ও জটিল হওয়ায় প্রত্যাশিত সংখ্যক আবেদন জমা পড়েনি বলে সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা।
ইতালি সরকার প্রতি বছর নির্দিষ্ট কোটার ভিত্তিতে স্পন্সর ভিসার মাধ্যমে বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের অনুমতি দিয়ে থাকে। কৃষি, নির্মাণ, পর্যটন, সেবাখাত ও শিল্প উৎপাদন—এই পাঁচটি প্রধান খাতে শ্রমিক চাহিদা সবচেয়ে বেশি। ‘ক্লিক ডে’ পদ্ধতিতে নির্ধারিত দিনে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অনলাইনে আবেদন জমা দিতে হয়। প্রযুক্তিগত ত্রুটি, সার্ভার জট ও কাগজপত্র যাচাইয়ের জটিলতার কারণে বহু আবেদন বাতিল হয়ে যায়।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের মতে, আবেদনকারীর সংখ্যা তুলনামূলক কম হওয়ায় যারা নিয়ম মেনে আবেদন সম্পন্ন করতে পেরেছেন, তাদের অনুমোদন পাওয়ার সম্ভাবনা কিছুটা বেশি। তবে সামগ্রিক বাস্তবতা ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে। প্রশাসনিক জটিলতা এবং অনুমোদন প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতায় বিপুলসংখ্যক শ্রমিক বৈধতার অপেক্ষায় থেকে অবৈধ অবস্থানে চলে যাচ্ছেন।
ইতালির উচ্চকক্ষ সিনেটে উপস্থাপিত ‘এরো স্ত্রানিয়েরো’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, কোটাভিত্তিক স্পন্সর ভিসার অনুমোদনের হার আশানুরূপ নয়। নিচের সারণিতে সাম্প্রতিক দুই বছরের তথ্য তুলে ধরা হলো—
| বছর | নির্ধারিত কোটা | চূড়ান্ত অনুমোদন | অনুমোদনের হার |
|---|---|---|---|
| ২০২৪ | ১,৪৬,৮৫০ | ২৪,৮৫৮ | ১৬.৯% |
| ২০২৫ | ১,৮১,৪৫০ | ১৪,৩৪৯ | ৭.৯% |
উপরের তথ্য থেকে স্পষ্ট, ২০২৫ সালে কোটা বাড়ানো হলেও অনুমোদনের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত যাচাই-বাছাই, কাগজপত্রের অসামঞ্জস্য, নিয়োগকর্তার সীমাবদ্ধতা এবং প্রশাসনিক বিলম্ব—এই চারটি প্রধান কারণে অনুমোদনের হার কমছে।
ইতালির অর্থনীতিতে বিদেশি শ্রমিকদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কৃষিখাতে মৌসুমি ফল ও শাকসবজি উৎপাদন, নির্মাণশিল্পে অবকাঠামো উন্নয়ন এবং পর্যটনখাতে সেবাদানের ক্ষেত্রে তারা অপরিহার্য ভূমিকা রাখছেন। তা সত্ত্বেও জটিল অনুমোদন প্রক্রিয়া অনেককে বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই কাজ করতে বাধ্য করছে, যা একদিকে মানবাধিকার ঝুঁকি তৈরি করছে, অন্যদিকে সরকারের কর আদায়ে ঘাটতি সৃষ্টি করছে।
দেশটির নাগরিক সমাজ ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা মনে করছেন, ডিজিটাল আবেদন ব্যবস্থার প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে ফাইল নিষ্পত্তি এবং নিয়োগকর্তা যাচাই প্রক্রিয়া সহজীকরণ করলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে স্বচ্ছ ও দ্রুত ভিসা অনুমোদন নিশ্চিত করা গেলে অবৈধতার হার কমবে এবং শ্রমবাজার আরও স্থিতিশীল হবে বলে সংশ্লিষ্টরা প্রত্যাশা করছেন।