খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৭ জুন ২০২৬
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উদ্যোগে আয়োজিত একটি ফল উৎসবে অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই সহিংস হামলার ঘটনায় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও যুবদলের কয়েকজন সাবেক নেতাসহ সর্বমোট ১২০ জনের বিরুদ্ধে রূপগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। রবিবার (৭ জুন) রাতে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রূপগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মোক্তার হোসেন। এর আগে, একই দিন সকালে রূপগঞ্জ থানায় উপস্থিত হয়ে মামলাটি দায়ের করেন হামলায় গুরুতর আহত হওয়া উপজেলা যুবশক্তির যুগ্ম সদস্য সচিব আল ফারাবি। দায়েরকৃত এই মামলায় ২০ জন এজাহারনামীয় ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা হিসেবে আরও ১০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। উদ্ভূত এই ঘটনায় রূপগঞ্জ থানা পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে ইতিমধ্যে নিলয় এবং রাজু নামের দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে। পরবর্তীতে গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় আদালতে হাজির করা হলে বিজ্ঞ বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ প্রদান করেন।
মামলার আনুষ্ঠানিক এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার বিকেলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পূর্বনির্ধারিত ফল উৎসবের কর্মসূচি চলছিল। অনুষ্ঠান চলাকালীন সময় একদল সশস্ত্র ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করে আচমকা হামলা চালায়। হামলাকারীরা অনুষ্ঠানস্থলের মূল মঞ্চ এবং প্যান্ডেলসহ বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক ভাঙচুর এবং তাণ্ডব লীলা চালায়। এই সুনির্দিষ্ট ভাঙচুরের ফলে উৎসবস্থলে প্রায় দুই লাখ টাকার আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে মামলার এজাহারে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বিশদভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, হামলার সময় উদ্বুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং ভাঙচুরে বাধা দিতে গেলে আয়োজক কমিটির আল ফারাবিসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে লাঠিসোঁটা ও অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। এতে করে কয়েকজন নেতাকর্মী শারীরিক জখম ও গুরুতর আহত হন। একই সঙ্গে হামলাকারীরা অনুষ্ঠানে ব্যবহারের জন্য আনা মাইক, সাউন্ড সিস্টেম, বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যাটারি এবং উৎসবের মূল আকর্ষণ হিসেবে সংগৃহীত বিভিন্ন ধরনের ফলফলাদি জোরপূর্বক লুটপাট করে নিয়ে যায়। এজাহারে বাদীপক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, উৎসবস্থল থেকে লুটপাট করে নিয়ে যাওয়া এসব সামগ্রী ও মালামালের আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় চার লাখ টাকা।
মামলায় রাজনৈতিক দলগুলোর নামীয় আসামিদের তালিকায় বেশ কয়েকজন পরিচিত মুখের নাম উঠে এসেছে। মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন—রূপগঞ্জ থানা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মারুফ মোল্লা, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি সুলতান মাহমুদ, দাউদপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক রুবেল পাশা এবং জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি মাইনুল ইসলাম সুরুজ।
এই বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে কেন্দ্রীয় যুবশক্তির সিনিয়র সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াসিন আরাফাত গণমাধ্যমকে বলেন, ফল উৎসবের মতো একটি শান্তিপূর্ণ সামাজিক ও রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে এই ধরনের বর্বরোচিত হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। হামলার ঘটনায় জড়িত থাকা সকল অপরাধীদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ধারায় হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনি অনতিবিলম্বে এজাহারভুক্ত এবং অজ্ঞাতনামা সকল অভিযুক্তদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক আইনি শাস্তির আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানান। ইয়াসিন আরাফাত আরও উল্লেখ করেন, যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সহিংসতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশে এ ধরনের অপতৎপরতার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অত্যন্ত কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
রূপগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মোক্তার হোসেন মামলার সার্বিক অগ্রগতির বিষয়ে জানান, ফল উৎসবে হামলার ঘটনাটিকে পুলিশ প্রশাসন অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে। এই ঘটনার বিষয়ে ইতোমধ্যে একটি সুনির্দিষ্ট মামলা রুজু হয়েছে এবং ঘটনার মূল রহস্য ও জড়িতদের সম্পূর্ণরূপে শনাক্ত করতে পুলিশের তদন্ত কার্যক্রম পুরোদমে চলমান রয়েছে। অপরাধের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত থাকা বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত আছে। ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার হওয়া দুই আসামিকে আদালতের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং বাকিদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।