বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে এসব আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ১৫ মার্চ থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ২ লাখ ১ হাজার ৬২৫ জনের তথ্য পাওয়া গেছে। একই সময়ে পরীক্ষায় ২২ হাজার ১১৬ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। দীর্ঘ এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনি হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে রয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টার হিসাব অনুযায়ী, নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ১ হাজার ৩৩২ জনকে সন্দেহজনক হাম রোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আর ৯৬ জনের শরীরে পরীক্ষায় হাম নিশ্চিত হয়েছে। অর্থাৎ এক দিনে সন্দেহজনক ও নিশ্চিত—দুই শ্রেণি মিলিয়ে মোট ১ হাজার ৪২৮ জন আক্রান্ত হয়েছে।
মৃত্যুর সামগ্রিক চিত্রও উদ্বেগজনক। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, ১৫ মার্চ থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ৪০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়ার পর মারা গেছে আরও ১০৪ শিশু। দুই ধরনের মৃত্যুকে একত্রে ধরলে দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মৃত শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৪৪ জনে।
হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যাও পরিস্থিতির ব্যাপকতা তুলে ধরছে। ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম নিয়ে মোট ১ লাখ ৭৮ হাজার ৯২৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ১ লাখ ৭১ হাজার ৬৮০ জন হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে।
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। সাধারণত জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া এবং পরে শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়া এর প্রধান লক্ষণ। শিশুদের ক্ষেত্রে রোগটি গুরুতর হলে নিউমোনিয়া, পানিশূন্যতা বা অন্যান্য জটিলতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে অপুষ্টিতে ভোগা শিশু ও দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি হতে পারে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত পরিসংখ্যানে নিশ্চিত হাম এবং হামের উপসর্গ—দুই ধরনের ঘটনাকে আলাদাভাবে হিসাব করা হচ্ছে। ফলে প্রতিদিনের আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বিশ্লেষণের সময় এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ। নিশ্চিত হাম বলতে পরীক্ষার মাধ্যমে রোগ শনাক্ত হওয়াকে বোঝানো হচ্ছে, আর সন্দেহজনক বা উপসর্গের ক্ষেত্রে রোগীর লক্ষণ ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে হিসাব করা হচ্ছে।
১৫ মার্চ থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত পাওয়া তথ্যগুলো দেখাচ্ছে, দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ চিকিৎসা নিয়েছেন এবং আক্রান্তদের বড় একটি অংশকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশ রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও মৃত্যুর ধারাবাহিকতা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে রয়েছে।
নতুন করে এক দিনে ১ হাজার ৪২৮ জন আক্রান্ত হওয়ার তথ্যও পরিস্থিতির ওপর নজর রাখার প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে জ্বর, শরীরে র্যাশ, কাশি, চোখ লাল হওয়া কিংবা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। হামের বিস্তার ঠেকাতে আক্রান্ত রোগী শনাক্তকরণ, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এবং টিকাদান কার্যক্রমের পাশাপাশি পরিবার ও কমিউনিটি পর্যায়ে সচেতনতার গুরুত্বও রয়েছে।



