রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন আরও তিন আসামি।
বুধবার (২৩ জুলাই) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে ১৬৪ ধারায় তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পাশাপাশি মামলার নতুন দুই আসামিকে ৭২ ঘণ্টার রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন আদালত।
জবানবন্দি দেওয়া তিন আসামি হলেন—নান্নু কাজী, তারেক রহমান ও রেজওয়ান উদ্দিন। আর রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে পারভেজ ও জহিরকে। জবানবন্দি শেষে ওই তিনজনকে কারাগারে পাঠানো হয়।
জানা গেছে, চোরাই তার ও ভাঙারি ব্যবসা নিয়ে বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয় লাল চাঁদকে। এ ঘটনায় ইতিমধ্যে মাহমুদুল হাসান মহিনসহ মোট ৮ আসামি হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী গণমাধ্যমকে বলেন, পল্লী বিদ্যুতের চোরাই তার ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বন্দ্ব থেকেই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। হত্যাকারীরা সবাই নিহতের পূর্বপরিচিত ছিলেন।
গত ৯ জুলাই সন্ধ্যায় মিটফোর্ড (স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ) হাসপাতালের সামনে ব্যস্ত সড়কে প্রকাশ্যে লাল চাঁদকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। একদল ব্যক্তি তাকে ইট-পাথরের খণ্ড দিয়ে মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত করে। একপর্যায়ে তাকে বিবস্ত্র করে হত্যাকারীদের শরীরে লাফাতেও দেখা যায়—যা স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজে।
ঘটনার পরদিন ১০ জুলাই কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা করেন লাল চাঁদের পরিবারের সদস্যরা। মামলার পর তদন্তে নেমে পুলিশ এ পর্যন্ত মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন: রেজওয়ান উদ্দিন, মো. নান্নু কাজী, সজীব ব্যাপারী, রাজীব ব্যাপারী, টিটন গাজী, মাহমুদুল হাসান মহিন, তারেক রহমান রবিন, আলমগীর, পারভেজ, জহির এবং মনির ওরফে ছোট মনির। এর মধ্যে বেশ কয়েকজন বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে রয়েছে এবং আদালতে জবানবন্দিও দিয়েছে।
পুলিশ বলছে, মামলার তদন্ত এখনও চলমান। আরও জড়িতদের খুঁজে বের করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
খবরওয়ালা/আশ



