খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ই জুলাই ২০২৬, ৩:৫৮ এএম
নেইমার জুনিয়রের চোখের জলের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার আন্তর্জাতিক ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চকে বিদায় জানালেন সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ২০২৬ বিশ্বকাপের অত্যন্ত রোমাঞ্চকর নকআউট ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে টুর্নার্মেন্ট থেকে ছিটকে গেছে পর্তুগাল। আর এই নাটকীয় পরাজয়ের সঙ্গেই চিরতরে শেষ হয়ে গেল ৪১ বছর বয়সী পর্তুগিজ মহাতারকার বিশ্বজয়ের শেষ স্বপ্ন।
ম্যাচজুড়ে ছিল টানটান উত্তেজনা, গতি আর আক্রমণ-প্রতিআক্রমণের তুমুল রোমাঞ্চ। মাঠের লড়াইয়ে লা রোহাদের তিকি-তাকা কৌশলের বিপরীতে গতিশীল কাউন্টার অ্যাটাকে জবাব দিচ্ছিল পর্তুগাল। তবে স্পেনের জমাট রক্ষণভাগ আর গোলরক্ষকের অতিমানবীয় কিছু সেভের দেয়াল শেষ পর্যন্ত ভাঙতে পারেনি পর্তুগিজ ফরোয়ার্ডরা। ম্যাচের একমাত্র গোলটিই পর্তুগালকে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে দেয় এবং স্পেনের কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে।
রেফারির শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই মাঠের মাঝে হাঁটু গেড়ে বসে পড়েন সিআর সেভেন। পুরো পর্তুগাল শিবিরে তখন নেমে এসেছে স্তব্ধতা। নিজের আবেগকে আর ধরে রাখতে পারেননি এই কিংবদন্তি। ড্রেসিংরুমের টানেলে যাওয়ার পথে ক্যামেরার লেন্সে ধরা পড়ে তার অশ্রুসিক্ত ও বেদনাকাতর মুখ। দুই হাত দিয়ে চোখ মুছে বিশ্বমঞ্চকে তার এই বিদায় জানানোর দৃশ্য কোটি ফুটবল ভক্তের হৃদয় ভেঙে দিয়েছে।
২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে পর্তুগালের ফুটবলকে একা হাতে টেনেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ২০১৬ সালে দেশকে প্রথম উয়েফা ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের স্বাদ দেওয়া কিংবা ২০১৯ সালের নেশনস লিগের ট্রফি উঁচিয়ে ধরা—সবখানেই ছিল তার রাজকীয় নেতৃত্ব। আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার সিংহাসনটি নিজের করে নিলেও, ফুটবল ইতিহাসের এই মহানায়কের ক্যারিয়ারে সোনালী বিশ্বকাপ ট্রফিটা শেষ পর্যন্ত অধরাই থেকে গেল।
বিশ্বকাপের মঞ্চে এটিই ছিল রোনালদোর ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ। ফুটবল বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ এই তারকার বিদায় এমন এক ট্র্যাজিক হারের মাধ্যমে ঘটবে, তা হয়তো কোনো ফুটবল অনুরাগী কল্পনাও করেননি। ট্রফি দিয়ে হয়তো রোনালদোর সর্বকালের সেরা শ্রেষ্ঠত্ব পরিমাপ করা যাবে না, তবে বিশ্বমঞ্চে তার এই অশ্রুসিক্ত বিদায় ফুটবল ইতিহাসের পাতায় অন্যতম এক বেদনাবিধুর ও আবেগঘন মুহূর্ত হয়ে চিরকাল অমর থাকবে।
যেহেতু সংবাদে প্রচুর পরিসংখ্যান বা ১০টির বেশি ডেটা পয়েন্টের আলাদা তালিকা নেই, তাই নিচে রোনালদোর দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সামগ্রিক অর্জনের একটি বিবরণী দেওয়া হলো, যা তার অনন্য কীর্তিকে ফুটিয়ে তোলে:
আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক: ২০০৩ সাল (কাজাখস্তানের বিরুদ্ধে মাত্র ১৮ বছর বয়সে)।
বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ: সর্বমোট ৫টি বিশ্বকাপে (২০০৬, ২০১০, ২০১৪, ২০১৮, २०२२ এবং ২০২৬ এর এই আসর) অংশ নিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক গোল: পুরুষ ফুটবলের ইতিহাসে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড।
প্রধান আন্তর্জাতিক ট্রফি: ২০১৬ উয়েফা ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ এবং ২০১৯ উয়েফা নেশনস লিগ।
ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ সম্মান: ৫ বার ফুটবল বিশ্বের মর্যাদাপূর্ণ ব্যালন ডি’অর জয়।
রোনালদোর এই বিদায়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফুটবলের একটি সোনালী অধ্যায়ের অবসান ঘটল। বিশ্বমঞ্চে ট্রফি না পেলেও, ফুটবল মাঠে তার অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স এবং লড়াকু মানসিকতা আগামী প্রজন্মের ফুটবলারদের জন্য আজীবন অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
মন্তব্য