খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩ অক্টোবর ২০২৫
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে ভালো ফলন এবং বেশি লাভের আশায় অনলাইনে বেগুনের বীজ কিনে বেশ কয়েকজন কৃষক প্রতারণার শিকার হয়েছেন। বীজ রোপণের চার মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত গাছগুলোতে কোনো ফুল বা ফল আসেনি।
উপজেলার বুলাকিপুর ইউনিয়নের বলগাড়ি গ্রামে এই ঘটনাটি ঘটেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানিয়েছেন, বীজ বপন থেকে শুরু করে চাষাবাদে তাদের ইতোমধ্যে ছয় লক্ষাধিক টাকা ব্যয় হয়েছে। এই সম্পূর্ণ অর্থই লোকসানে পরিণত হতে চলেছে।
কৃষি বিভাগের বক্তব্য, অনলাইনে বীজ কেনার আগে কৃষি দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করা আবশ্যক ছিল। তাহলে কৃষি কর্মকর্তারা তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে পারতেন। এখন ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের ক্ষতিপূরণ বা প্রণোদনা দেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।
বলগাড়ি গ্রামের কৃষক রবিউল ইসলাম জানান, “আমি নিয়মিত অন্যের জমি ভাড়া নিয়ে বিভিন্ন দেশি জাতের বেগুনের চাষ করি। গত বছরও একই ধারাবাহিকতায় চাষ করেছিলাম। ফলন ভালো হওয়ায় সেই বেগুনের ছবি ফেসবুকে দেই। সেই ছবি দেখে ওপি কোম্পানির রাসেল নামে একজন আমার সঙ্গে অনলাইনে যোগাযোগ করেন। তিনি আমাকে তাদের বারি-১২ জাতের বেগুন চাষ করার পরামর্শ দেন। তিনি জানান, এই বেগুন চাষ অত্যন্ত লাভজনক এবং ফলন খুব ভালো হয়। এরপর তিনি আমাকে বীজ সরবরাহ করেন। আমি অন্যের জমি বর্গা নিয়ে দেড় বিঘা জমিতে সেই বীজ রোপণ করি। আমার দেখাদেখি আরও তিনজন কৃষক তাদের জমিতে এই বীজ লাগান। কিছুদিন পর গাছ গজাতে শুরু করে। কিন্তু ৯০ দিন পার হয়ে গেলেও গাছে কোনো ফুল বা ফল আসেনি। পরে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা আমাকে বলেন, তিন মাস অতিবাহিত না হলে ফল আসবে না। এখন ১২০ দিন পেরিয়ে গেলেও গাছে কোনো ফুল বা ফল ধরেনি। কোম্পানিকে ফোন দিলে তারা নানা ধরনের টালবাহানা করে এবং বিভিন্ন প্রকার ওষুধ প্রয়োগের পরামর্শ দেয়। তাদের কথা মতো ওষুধ প্রয়োগসহ সবকিছু করতে গিয়ে আমি এখন নিঃস্ব। যারা আমার এত বড় ক্ষতি করলো, আমি তাদের বিচার চাই।”
আরেকজন ভুক্তভোগী কৃষক তাজমল হক বলেন, “আমি ২৫ শতক জমি ভাড়া নিয়ে বারি-১২ জাতের বেগুনের বীজ বুনেছিলাম। বীজ লাগানোর আজ চার মাস হয়ে গেছে। গাছে ফুল আসেনি, ফল তো অনেক দূরের কথা। এই বিষয়ে কোম্পানির লোকের সঙ্গে অনেকবার কথা হয়েছে। তারা আসলে আমাদের সঙ্গে জালিয়াতি করেছে।”
বীজ বিক্রেতা রাসেল বলেন, “এটি মূলত শীতকালে ফলন দেয় এমন বেগুনের বীজ। শীতকালে ফল ধরবে। কিন্তু তারা আগাম চাষ করেছে, যে কারণে এই সমস্যা দেখা দিয়েছে। এটি আসলে বড় কোনো সমস্যা নয়।”
ঘোড়াঘাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রফিকুজ্জামান বলেন, “কয়েকজন কৃষক অনলাইনে বারি-১২ জাতের বেগুন, যা লাউ বেগুন নামেও পরিচিত, কিনে প্রতারিত হয়েছেন। এক্ষেত্রে কৃষকদের প্রতি আমাদের উপদেশ থাকবে যে নতুন কোনো ফসল বা চারা অনলাইনে কিনবেন না। আর যদি কিনতেই হয়, তবে সবার আগে আমাদের কৃষি অফিসে আসবেন। এটি ফলনের জন্য ভালো হবে কিনা বা বিক্রেতা বিশ্বস্ত কিনা, তা নিশ্চিত হওয়ার পরেই জমিতে লাগাবেন। বর্তমানে যে কৃষকরা অনলাইন থেকে বীজ কিনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের কৃষি প্রণোদনা দেওয়া যায় কিনা, তা বিবেচনা করা হবে। এছাড়াও, প্রতারণাকারী কোম্পানির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া যায় কিনা, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে।”
খবরওয়ালা/টিএসএন