চার দিনের অচলাবস্থার পর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে পাহাড়ি জনপদ খাগড়াছড়ি। দূরপাল্লার বাস চলাচল শুরু হয়েছে, দোকানপাটও খুলছে। ঘোষিত অবরোধ কর্মসূচি আগামী ৫ অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত হওয়ায় এলাকায় স্বস্তির বাতাস বইতে শুরু করেছে।
বুধবার (১ অক্টোবর) সকাল থেকে সীমিত আকারে কিছু দূরপাল্লার গাড়ি ছেড়ে যেতে দেখা যায়। বাস কাউন্টারগুলোতেও যাত্রীদের উপস্থিতি বাড়তে শুরু করেছে।
এর আগে মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে সংগঠনের ফেসবুক পেজে জানানো হয়, শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রতি সম্মান জানিয়ে এবং প্রশাসনের দেওয়া ৮ দফা বাস্তবায়নের আশ্বাসের ভিত্তিতে অবরোধ সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
তবে জেলা সদর ও গুইমারা উপজেলায় ১৪৪ ধারা বলবৎ থাকলেও দোকানপাট খোলা থাকবে বলে জানিয়েছেন খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. হাসান মারুফ।
কয়েকদিনের উত্তেজনার কারণে সাধারণ মানুষের মনে যে ভয় ও উৎকণ্ঠা কাজ করছিল, তা কমতে শুরু করেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত হলে ১৪৪ ধারা ধাপে ধাপে প্রত্যাহার করা হবে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জেলাজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার রয়েছে। সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশের যৌথ টহল অব্যাহত আছে। গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও প্রবেশপথে বসানো হয়েছে চেকপোস্ট, যেখানে চলছে কড়াকড়ি তল্লাশি। এতে জনমনে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরেছে।
দুর্গাপূজা উপলক্ষে খাগড়াছড়ির শ্রী শ্রী লক্ষ্মীনারায়ণ মন্দির পরিদর্শন করেছেন ২০৩ পদাতিক ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জনাব হাসান মাহমুদ। বেলা ১১টায় তিনি পূজা মণ্ডপ ঘুরে দেখেন। এ সময় উপস্থিত ভক্তদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হাসান মারুফ বলেন, ‘এখনো ১৪৪ ধারা জারি আছে। যেহেতু পূজা চলছে তাই মানুষের যাতায়াতকে বাধাগ্রস্ত করছি না। পুলিশের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শীঘ্রই ১৪৪ ধারা তুলে নেওয়ার সিন্ধান্ত আসতে পারে।’
২৩ সেপ্টেম্বর রাতে খাগড়াছড়ির সদর উপজেলায় মারমা জাতিগোষ্ঠীর এক কিশোরীকে দলবেঁধে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার পর থেকেই বিক্ষোভ ও উত্তেজনা চলছিল পার্বত্য এ জেলায়।
পরদিন বুধবার এ ঘটনায় সেনাবাহিনীর সহায়তায় পুলিশ শয়ন শীল নামের ১৯ বছর বয়সি এক তরুণকে গ্রেপ্তার করে। ধর্ষণের ঘটনার জড়িত বাকিদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবিতে বৃহস্পতিবার জেলায় আধাবেলা সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করে ‘জুম্ম ছাত্র-জনতা’।
এরপর শনিবার ভোর ৫টায় ‘জুম্ম-ছাত্র জনতা’র ব্যানারে অবরোধ কর্মসূচি শুরু হয়। কর্মসূচির কারণে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি, খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি-সাজেক সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। এমন উত্তেজনার মধ্যে গুইমারায় ১৪৪ ধারা ভেঙে সহিংসতা হয়, সেখানে গুলিতে নিহত হয়েছেন অন্তত তিনজন।
গুইমারায় সংঘটিত ঘটনার তদন্তের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মারমা কিশোরীর স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতিবেদনে ‘ধর্ষণের কোনো আলামত পাননি’ বলে জানিয়েছেন পরীক্ষায় নেতৃত্ব দেওয়া চিকিৎসক।
মঙ্গলবার ধর্ষণের আলামত পরীক্ষায় তিন চিকিৎসক দলটির প্রধান খাগড়াছড়ি আধুনিক সদর হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট (গাইনি) জয়া চাকমা বলেছেন, ‘আমরা মেডিকেলে রির্পোট জমা দিয়েছি। সবধরনের পরীক্ষা নিরীক্ষা করেছি। কিন্তু আসলে ধর্ষণের কোনো আলামত পাইনি।’



