মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলায় অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ ডিজেল মজুতের অভিযোগে অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ৬০০ লিটার জ্বালানি তেল জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। শনিবার সকালে উপজেলা প্রশাসন এ তথ্য নিশ্চিত করে জানায়, নিয়মবহির্ভূতভাবে জ্বালানি তেল মজুত করে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের অপচেষ্টা প্রতিরোধে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান জানান, উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের চিতলিয়া এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার রাতের দিকে এই অভিযান পরিচালিত হয়। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় চিতলিয়া বাজারে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের আড়ালে অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুত করা হচ্ছিল বলে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ আসছিল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়।
অভিযানকালে হিরন এন্টারপ্রাইজ নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মালিকের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে আটটি বড় ড্রামে সংরক্ষিত মোট ১ হাজার ৬০০ লিটার ডিজেল উদ্ধার করা হয়। সংশ্লিষ্টরা কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় তেলগুলো তাৎক্ষণিকভাবে জব্দ করা হয়। তবে অভিযানের সময় অভিযুক্ত ব্যবসায়ী হিরন মিয়া এবং তার ছেলে জুয়েল মিয়া পালিয়ে যাওয়ায় তাদের আটক করা সম্ভব হয়নি।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও মূল্য স্থিতিশীল রাখতে সরকার নির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসারে তেল সংরক্ষণ ও বিক্রির বিধান দিয়েছে। এই নিয়ম ভঙ্গ করে কেউ যদি অবৈধভাবে তেল মজুত করে, তাহলে তা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। অনেক ক্ষেত্রে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরও বলেন, অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা অতিরিক্ত লাভ করার কোনো সুযোগ প্রশাসন দেবে না। জব্দ করা ডিজেল সরকার নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পরবর্তীতে সাধারণ মানুষের মাঝে ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করা হবে। একই সঙ্গে পলাতক অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।
নিচে অভিযানের সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| অভিযানের স্থান | চিতলিয়া এলাকা, আলীনগর ইউনিয়ন |
| উপজেলা | কমলগঞ্জ, মৌলভীবাজার |
| জব্দকৃত ডিজেলের পরিমাণ | ১,৬০০ লিটার |
| সংরক্ষণের পদ্ধতি | ৮টি ড্রামে |
| অভিযুক্ত ব্যক্তি | হিরন মিয়া ও জুয়েল মিয়া |
| বর্তমান অবস্থা | পলাতক |
| পরবর্তী ব্যবস্থা | ন্যায্যমূল্যে বিক্রির প্রক্রিয়া |
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং যারা অবৈধভাবে জ্বালানি মজুত করে বাজার ব্যবস্থাকে ব্যাহত করার চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



