খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৯ অক্টোবর ২০২৫
রংপুর ও গাইবান্ধায় অ্যানথ্রাক্স রোগ প্রতিরোধক টিকায় সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
স্বল্পমূল্যের টিকা (প্রতি ভ্যাকসিন ৮০ পয়সা) মাঠ পর্যায়ের প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মীরা ২০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত নিয়ে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় খামারি ও গৃহস্থরা জানান, সরকার নির্ধারিত ভ্যাকসিন পেতে কখনো দরদাম, কখনো বকশিশ আবার কখনো উপহার হিসেবে অর্থ দিতে হচ্ছে। গত দুই মাসে এই কাজে জড়িত কর্মীরা প্রায় ৫০ লাখ টাকা আদায়ের স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।
রংপুর বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অফিসের তথ্য অনুযায়ী, দুই জেলায় সম্প্রতি অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত গরু, ছাগল ও ভেড়া শনাক্ত হওয়ায় প্রতিষেধক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বুধবার পর্যন্ত দুই জেলার দুই লাখ ২১ হাজার গবাদি পশুকে ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয়েছে। এর মধ্যে রংপুরের পীরগাছা, কাউনিয়া ও মিঠাপুকুরে এক লাখ ৬৮ হাজার এবং গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জসহ অন্যান্য উপজেলায় ৫৩ হাজার পশু টিকাদান হয়েছে।
গবাদি পশুর মালিকরা অভিযোগ করেন, প্রতি ভ্যাকসিনে ২০ থেকে ১০০ টাকা দিতে হচ্ছে। গড়ে ৩০ টাকা হলেও দুই জেলার মাঠকর্মীরা প্রায় ৬৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা সংগ্রহ করেছেন।
পীরগাছার দেউতি উপজেলার খামারি গোলজার হোসেন বলেন, “আমার ৭টা গরু আছে। তারা এসে বলল সরকারি টিকার জন্য কিছু খরচ লাগবে। কেউ ২০ টাকা, কেউ ৩০, কেউ ৫০ টাকা দিয়েছে, কেউ দেয়নি।”
এক কর্মী মো. রতন মিয়া বলেন, “টাকা নেওয়া সঠিক নয়। ৮০ পয়সার টিকা কেউ খুচরা দেয় না। কেউ ১০, কেউ ২০, কেউ ৫ টাকা দিয়েছে। কাউকে বাধ্য করা হয়নি।”
রংপুর প্রাণিসম্পদ বিভাগের পরিচালক ডা. আব্দুল হাই সরকার বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ এখনও আমাদের কাছে সরাসরি আসেনি। প্রমাণ পাওয়া গেলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
খবরওয়ালা/আশ