খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 24শে আশ্বিন ১৪৩২ | ৯ই অক্টোবর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ফেনীর সোনাগাজীতে আসামি ধরতে গিয়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় শটগান ও ওয়াকি-টকি খোয়া যাওয়াকে অযোগ্যতা বিবেচনায় ছয় পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
বুধবার (৮ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সোনাগাজী সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার সৈয়দ মুমিদ রায়হান।
বরখাস্ত পুলিশ সদস্যরা হলেন, সোনাগাজী মডেল থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) সাইদুর রহমান ও মোফাজ্জল হোসেন, কনস্টেবল মাহবুব আলম, আইনুল করিম, কাঞ্চন ও হৃদয়। তাঁদের ফেনী পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) ভোরে এএসআই সাইদুর রহমান ও মোফাজ্জল হোসেনের নেতৃত্বে একটি টিম ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি আহাম্মদপুর গ্রামের আবুল হাশেমের দুই ছেলে—জাহেদুল ইসলাম রিপন ও রফিকুল ইসলাম আরিফকে গ্রেপ্তারে যায়। অভিযান চলাকালে আসামি ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে পুলিশের কাছ থেকে একটি ওয়াকিটকি ও একটি শটগান কেড়ে নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।
ঘটনার পর সরকারি কাজে বাধা ও হামলার অভিযোগে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে। এতে ছয়জনকে আসামি করা হয় এবং দুই নারীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে বুধবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, জাহেদুল ইসলাম রিপন, তাঁর বোন সাবিনা ইয়াসমিন ও ছোট ভাইয়ের স্ত্রী নিশু।
তবে গ্রেপ্তারদের পরিবারের দাবি, পুলিশ ষড়যন্ত্র করে তাঁদের ফাঁসিয়েছে। রিপনের বোন রোকসানা আক্তার বলেন, “আমার ভাই ডাকাত নয়, নদীতে মাছ ধরে জীবিকা চালায়। ছয়জন পুলিশকে হামলা করার কোনো ঘটনাই ঘটেনি।”
সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল ইসলাম জানান, ওই ছয় পুলিশ সদস্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। কেউ গুরুতর আহত ছিলেন না।
সোনাগাজী থানার ওসি সাইফুল আলম বলেন, আসামি রিপন ও আরিফের বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও অস্ত্র আইনে ১২টি মামলা রয়েছে। ঘটনাস্থলে সার্কেল কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশও উপস্থিত ছিলেন।
ফেনীর পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, “ওই পুলিশ সদস্যরা আসামি ধরতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছেন। উল্টো শটগান ও ওয়াকিটকি ফেলে চলে এসেছেন। এটি স্পষ্ট অযোগ্যতা। তাই তাদের দায় নিতে হবে।”
খবরওয়ালা/আশ