খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
তথ্য ফাঁসের আশঙ্কায় প্রায় তিন মাস ধরে দেশে অনলাইনে মৃত্যুনিবন্ধনের আবেদন গ্রহণ বন্ধ রয়েছে। ফলে সেবাপ্রত্যাশীদের সরাসরি নিবন্ধকের কার্যালয়ে গিয়ে আবেদন করতে হচ্ছে, যা অনেকের জন্য সময়সাপেক্ষ ও ভোগান্তিকর হয়ে উঠেছে।
ঢাকায় কর্মরত শিউলী আকতার সম্প্রতি তাঁর মায়ের মৃত্যু-পরবর্তী নিবন্ধন সম্পন্ন করতে গিয়ে এই সমস্যার মুখে পড়েন। তিনি বর্তমানে রাজধানীতে বসবাস করলেও তাঁর পৈতৃক নিবাস রাজশাহীতে। অনলাইনে আবেদন বন্ধ থাকায় তাঁকে সশরীরে রাজশাহীতে গিয়ে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হচ্ছে। তিনি জানান, আগে অনলাইনে আবেদন করে অনুলিপি নিয়ে স্থানীয় কার্যালয়ে গেলেই সনদ সংগ্রহ করা যেত। এখন সেই সুযোগ না থাকায় দূরপাল্লার যাতায়াত ছাড়া বিকল্প নেই।
গত বছরের নভেম্বর থেকে অনলাইনে নতুন মৃত্যুনিবন্ধনের আবেদন, আবেদনপত্র মুদ্রণ এবং সনদের পুনর্মুদ্রণ—এসব সেবা বন্ধ রয়েছে। একাধিক সেবাগ্রহীতা অভিযোগ করেছেন, ওয়েবসাইটে প্রবেশ করলেও প্রয়োজনীয় অংশে কাজ করা যাচ্ছে না। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অবহিত করা হলেও তাৎক্ষণিক সমাধান মেলেনি।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মৃত্যুনিবন্ধনকে ঘিরে একটি চক্র ব্যক্তিগত তথ্য অপব্যবহার ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়ার পর ২১ নভেম্বর থেকে অনলাইনে আবেদন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। বিশেষত যেসব মৃত ব্যক্তির আগে জন্মনিবন্ধন ছিল না, তাঁদের ক্ষেত্রে মৃত্যুনিবন্ধনের আগে জন্মনিবন্ধন সম্পন্ন করতে গিয়ে সংবেদনশীল তথ্য অননুমোদিতভাবে ফাঁস হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।
বর্তমানে জন্মনিবন্ধন সেবা স্বাভাবিক থাকলেও মৃত্যুনিবন্ধনের অনলাইন অংশ সীমিত। তবে সশরীরে নিবন্ধন কার্যালয়ে গিয়ে আবেদন করা যাচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় সহকারী নিবন্ধক হিসেবে প্রশাসনিক কর্মকর্তা বা সচিব দায়িত্ব পালন করেন এবং চেয়ারম্যান নিবন্ধক হিসেবে চূড়ান্ত অনুমোদন দেন। সিটি করপোরেশন এলাকায় আঞ্চলিক কার্যালয়ের মাধ্যমে নিবন্ধন সম্পন্ন হয়।
মৃত্যুনিবন্ধন সনদ সরকারি ভাতা, উত্তরাধিকার নির্ধারণ, পারিবারিক সম্পত্তি বণ্টন, পেনশন প্রাপ্তি ও জমিজমার নামজারি প্রক্রিয়ায় অপরিহার্য দলিল হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই অনলাইন সেবা বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষের ওপর প্রশাসনিক চাপ বেড়েছে।
নিবন্ধন ফি সংক্রান্ত নিয়মাবলি নিচে তুলে ধরা হলো—
| সময়সীমা | ফি |
|---|---|
| জন্ম বা মৃত্যুর ৪৫ দিনের মধ্যে | বিনামূল্যে |
| ৪৫ দিন থেকে ৫ বছরের মধ্যে | ২৫ টাকা |
| ৫ বছর পর | ৫০ টাকা |
| তথ্য সংশোধন | ১০০ টাকা |
রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে আবেদনের সঙ্গে আবেদনকারীর মুঠোফোন নম্বর যুক্ত করে এককালীন গোপন সংকেত পাঠানোর ব্যবস্থা চালুর প্রস্তুতি চলছে। এতে তথ্য যাচাই আরও সুরক্ষিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে অনলাইনে নতুন আবেদন পুনরায় চালু হতে পারে বলে কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন।
সবশেষ প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, ২৯ জানুয়ারি সারা দেশে ৪ হাজার ২১০টি মৃত্যুনিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে, যার মধ্যে ৩৬টি ছিল সংশোধনের আবেদন। অনলাইন সেবা দ্রুত পুনরায় চালু হলে নাগরিক ভোগান্তি কমবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।