খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
ঝালকাঠি থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়ে গেছে একটি অ্যাম্বুলেন্স। দুর্ঘটনায় অ্যাম্বুলেন্সে থাকা ৭৫ বছর বয়সী এক ক্যানসার রোগীর ডান পা ভেঙে গেছে। একই ঘটনায় তাঁর পরিবারের চার সদস্য ও অ্যাম্বুলেন্সের চালকও আহত হয়েছেন। সোমবার বেলা ১১টার দিকে বরিশাল–ঝালকাঠি আঞ্চলিক মহাসড়কের নলছিটি উপজেলার রায়পুর এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে।
আহত রোগীর নাম ফজলুল হক। তিনি ঝালকাঠি সদর উপজেলার পালবাড়ি এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় লবণ ব্যবসায়ী। পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে আক্রান্ত এবং নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যাতায়াত করেন। সোমবারও নির্ধারিত চিকিৎসা পরীক্ষার উদ্দেশ্যে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একটি বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকার পথে রওনা হয়েছিলেন তিনি।
দুর্ঘটনায় ফজলুল হকের ছেলে রিয়াজুল ইসলাম (৪৫), পুত্রবধূ আফরোজা বেগম (৪০), জামাতা মামুন হোসেন (৫৫) এবং নাতি পলক হোসেন (২২) আহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অ্যাম্বুলেন্সের চালকও। তবে তাঁর নাম ও ঠিকানা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, অ্যাম্বুলেন্সটি ঝালকাঠি থেকে ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। রায়পুর এলাকায় পৌঁছানোর পর কোনো একপর্যায়ে চালক গাড়িটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এরপর অ্যাম্বুলেন্সটি সড়কের পাশের একটি গাছের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়। ধাক্কার পর গাড়িটি রাস্তার পাশের একটি খাদে পড়ে যায়। এতে অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরে থাকা রোগী ও অন্য যাত্রীরা আহত হন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। খবর পেয়ে নলছিটি থানার পুলিশও সেখানে পৌঁছায়। স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সদস্যরা মিলে আহত ব্যক্তিদের অ্যাম্বুলেন্স থেকে উদ্ধার করেন। পরে তাঁদের প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ফজলুল হকের ভাতিজা মতিন রহমান জানান, তাঁর চাচা নিয়মিত চিকিৎসার অংশ হিসেবে প্রায় প্রতি মাসেই ঢাকায় গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী শারীরিক পরীক্ষা করান। সোমবারও তিনি একই উদ্দেশ্যে ঢাকার পথে যাত্রা করেছিলেন। কিন্তু রায়পুর এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স দুর্ঘটনার কবলে পড়লে তাঁর ডান পা ভেঙে যায়।
দুর্ঘটনার পর ফজলুল হককে প্রথমে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য একটি অ্যাম্বুলেন্সে তাঁকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। অন্যদিকে, দুর্ঘটনায় আহত পরিবারের সদস্যরা বরিশাল শের–ই–বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
এদিকে দুর্ঘটনার সঠিক কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। চালক কেন নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিলেন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। সড়কে দ্রুতগতির যানবাহন, চালকের অসতর্কতা কিংবা অন্য কোনো কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হতে পারে।
রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সের ক্ষেত্রে এমন দুর্ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। কারণ, জরুরি চিকিৎসার জন্য যাত্রা করা রোগীকে এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে নেওয়ার সময় পথেই দুর্ঘটনার শিকার হলে চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি রোগীর শারীরিক অবস্থারও অবনতি ঘটতে পারে। ফজলুল হকের ক্ষেত্রেও দুর্ঘটনার কারণে নির্ধারিত চিকিৎসা পরীক্ষা ও ঢাকায় পৌঁছানোর প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
নলছিটি থানার পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঘটনাটি সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।