খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬
ইসলামি বক্তা মিজানুর রহমান আজহারীর ছবি ও কণ্ঠস্বর ব্যবহার করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে ‘ডিপফেক’ ভিডিও তৈরি এবং এর মাধ্যমে প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার দুই যুবককে দুই দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল, ২০২৪) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদের আদালত এই আদেশ প্রদান করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পল্টন থানার উপপরিদর্শক সামিম হোসেন গ্রেপ্তারকৃত ১০ আসামির প্রত্যেকের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামি মো. সারাফাত হোসেন ও মো. শাফায়েত হোসেন শুভর দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বাকি আট আসামির রিমান্ড ও জামিন উভয় আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
কারাগারে পাঠানো আট আসামি হলেন: শাহাদাত তৌফিক, মো. ইমাম হোসেন বিজয়, মো. রফিকুল হাসান, মিনহাজুর রহমান শাহেদ, তৌকি তাজওয়ার ইলহাম, অমিদ হাসান, মো. আবদুল্লাহ ফাহিম এবং মো. ইমরান।
গত ২৩ এপ্রিল বিলাল হোসেন নামক এক ব্যক্তি বাদী হয়ে রাজধানীর পল্টন মডেল থানায় সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশে এই মামলাটি দায়ের করেন। মামলার পর ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পল্টন মডেল থানা এবং চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) বায়েজিদ বোস্তামী থানা যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে এই চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর ২৫ এপ্রিল তাদের আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন।
তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, এই চক্রটি দেশের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা হলেও চট্টগ্রামের একটি ভাড়া করা ফ্ল্যাটে বসে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করত। তারা মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং ‘ডিপফেক’ প্রযুক্তি ব্যবহার করে মিজানুর রহমান আজহারীর চেহারা ও কণ্ঠস্বর অবিকলভাবে নকল করত। তৈরিকৃত এসব ভিডিওতে সুকৌশলে বিভিন্ন যৌন উত্তেজক ওষুধের প্রচারণা চালানো হতো।
এজাহারের তথ্য অনুযায়ী, চক্রটি অন্তত ২৪টি ভুয়া ফেসবুক পেজ এবং বিভিন্ন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এই বিভ্রান্তিকর ভিডিওগুলো ছড়িয়ে দিত। সাধারণ মানুষ যখন এই বিজ্ঞাপনে প্রলুব্ধ হয়ে পণ্য অর্ডার করত, তখন ‘ক্যাশ অন ডেলিভারি’ পদ্ধতিতে পণ্য পাঠিয়ে তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হতো।
| আসামির নাম | বয়স | আদালতের সিদ্ধান্ত |
| মো. সারাফাত হোসেন | ২৪ বছর | ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর |
| মো. শাফায়েত হোসেন শুভ | ২১ বছর | ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর |
| শাহাদাত তৌফিক | ২১ বছর | জামিন নামঞ্জুর, কারাগারে প্রেরণ |
| মো. ইমাম হোসেন বিজয় | ২১ বছর | জামিন নামঞ্জুর, কারাগারে প্রেরণ |
| মো. রফিকুল হাসান | ২১ বছর | জামিন নামঞ্জুর, কারাগারে প্রেরণ |
| মিনহাজুর রহমান শাহেদ | ১৯ বছর | জামিন নামঞ্জুর, কারাগারে প্রেরণ |
| তৌকি তাজওয়ার ইলহাম | ২১ বছর | জামিন নামঞ্জুর, কারাগারে প্রেরণ |
| অমিদ হাসান | ২১ বছর | জামিন নামঞ্জুর, কারাগারে প্রেরণ |
| মো. আবদুল্লাহ ফাহিম | ২১ বছর | জামিন নামঞ্জুর, কারাগারে প্রেরণ |
| মো. ইমরান | ২৪ বছর | জামিন নামঞ্জুর, কারাগারে প্রেরণ |
বর্তমানে পুলিশ এই চক্রের সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না এবং তাদের আর্থিক লেনদেনের উৎস খতিয়ে দেখছে। রিমান্ডে থাকা দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এই জালিয়াতি চক্রের মূল নেটওয়ার্ক উদ্ঘাটন করার চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রযুক্তি ব্যবহার করে জনসাধারণের ধর্মীয় ও ব্যক্তিগত আবেগ কাজে লাগিয়ে এমন জালিয়াতি প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।