খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 8শে ফাল্গুন ১৪৩১ | ২০ই ফেব্রুয়ারি ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক: নৃবিজ্ঞান। পরিচিত বা আত্মীয়স্বজনের চোখে এটি কী? কেউ মনে করেন এটি সয়েল সায়েন্স, আবার কেউ মনে করেন বানরের বিবর্তনের বিজ্ঞান। শিক্ষিত মহল কিংবা গ্রামাঞ্চলে এই বিষয়ে জানাশোনার অভাবের কারণে মানুষের মধ্যে একে নিয়ে বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি হয়েছে। আবার কেউ কেউ, এই শব্দটি শুনলেই নাক ছিটকাতে দ্বিধাবোধ করেন না। তবে, নৃবিজ্ঞান এ সবকিছুই সামগ্রিকভাবে দেখার চেষ্টা করে, আর নৃবিজ্ঞানীরা এসব উপলব্ধি এবং ধারণাগুলোর গভীরে গিয়ে বোঝার চেষ্টা করেন।
তবে আজকের আলোচনায় এসব বিষয় নয়, বরং একটু ভিন্ন একটি বিষয় নিয়ে কথা বলি—আজ বিশ্ব নৃবিজ্ঞান দিবস। আর তাই, এই বিশেষ দিবসটির গুরুত্ব নিয়েই আলোচনা করি।
২০১৫ সালে প্রথম আমেরিকান অ্যানথ্রোপোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন বিশ্ব নৃবিজ্ঞান দিবসের সূচনা করে। প্রথমে এটি ‘ন্যাশনাল অ্যানথ্রোপোলজি ডে’ নামে পরিচিত ছিল। তবে ২০১৬ সালে এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় বিশ্ব নৃবিজ্ঞান দিবস। যাতে নৃবিজ্ঞানের বৈশ্বিক গুরুত্ব তুলে ধরা সম্ভব হয়।
মূলত প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি মাসের তৃতীয় বৃহস্পতিবার বিশ্ব নৃবিজ্ঞান দিবস পালন করা হয়। যার ফলে ২০২৫ সালের তৃতীয় সপ্তাহের বৃহস্পতিবার অর্থাৎ ২০ ফেব্রুয়ারি আজ বিশ্ব নৃবিজ্ঞান দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে। তবে বাংলাদেশের কোথাও এই দিবসটি পালন হচ্ছে না।
মানব জাতির উৎপত্তি এবং সামাজিক কার্যক্রম সম্পর্কে কৌতূহল থেকে উদ্ভূত জ্ঞানের এই শাখাটি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নৃবিজ্ঞান শাস্ত্রের গুরুত্ব এবং এটি কীভাবে বাস্তব সমস্যাগুলোর সমাধানে সাহায্য করতে পারে তা প্রদর্শন করার জন্য মূলত দিবসটি উদ্যাপিত হয়।
বিশ্ব নৃবিজ্ঞান দিবস নৃবিজ্ঞান শাস্ত্রের গুরুত্ব ও অবদান সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করা দিবসটি বিশ্বের নানা বৈচিত্র্য এবং অন্তর্ভুক্তির গুরুত্বকে তুলে ধরে। যা মানব সংস্কৃতি, ভাষা এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর বৈচিত্র্য উদ্যাপন করে।
এছাড়া এটি বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি শ্রদ্ধা ও বোঝাপড়াকে সম্প্রসারিত করে। দিবসটি নৃবিজ্ঞানীদের তাদের গবেষণা ভাগাভাগি করার এবং এর প্রাসঙ্গিকতা প্রদর্শন করার সুযোগ দেয়। বিশেষ করে এটি কীভাবে বাস্তব সমস্যাগুলোর সমাধান করা যায়, সে বিষয়ে এটি সাহায্য করতে পারে।
এছাড়া এটি শিক্ষার্থী এবং গবেষকদের নৃবিজ্ঞান বিষয়ে ক্যারিয়ার ভাবতে উৎসাহিত করে, এবং এর ইতিহাস, বিজ্ঞান এবং দৈনন্দিন জীবনের সাথে সম্পর্ক তুলে ধরে।
নৃবিজ্ঞান আমাদের পৃথিবী, আচরণ এবং আমাদের পরিবেশের উপর প্রভাব বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি আমাদের জীবনের বিভিন্ন দিক যেমন রাজনীতি, অর্থনীতি, খাদ্য, জাতিগত পরিচয় এবং প্যারেন্টিংকে প্রভাবিত করে। এটি সমস্ত মানবজাতির অধ্যয়ন এবং বিভিন্ন সময় ও স্থানে এর প্রভাব নিয়ে কাজ করে।
নৃবিজ্ঞান একটি সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে, যা এটি পরিবেশগত সংকট মোকাবেলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী হিসেবে অবস্থান করে।
নৃবিজ্ঞান ও বাংলাদেশে নৃবিজ্ঞানের বিভাগের যাত্রা
নৃবিজ্ঞানের সজ্ঞায় প্রাথমিকভাবে বলা যায়, নৃবিজ্ঞান হলো মানুষ সম্পর্কিত বিজ্ঞান। আরেকটু বাড়িয়ে বললে, নৃবিজ্ঞান মানবজাতির এমন এক বৈজ্ঞানিক অধ্যয়ন, যা মানব আচরণ, জীববিদ্যা, সংস্কৃতি, সমাজ এবং ভাষা নিয়ে কাজ করে। সামাজিক নৃবিজ্ঞান মানুষের আচরণের ধরন এবং সাংস্কৃতিক নৃবিজ্ঞান সংস্কৃতির মানে, নীতি ও মূল্যবোধ নিয়ে অধ্যয়ন করে।
ভাষাগত নৃবিজ্ঞান ভাষার প্রভাব এবং জীববৈজ্ঞানিক নৃবিজ্ঞান মানুষের শারীরিক উন্নয়ন নিয়ে গবেষণা করে। এছাড়াও নৃবিজ্ঞানের অন্যান্য ফলিত শাখাগুলোও তাদের নিজস্ব ফ্রেমে অধ্যয়ন চেষ্টা করে। বর্তমান সময়ে যেখানে মানুষের ছোঁয়া, কিংবা স্পর্শ পৌঁছেছে, নৃবিজ্ঞানও সেখানে নতুন নতুন জ্ঞানকাণ্ড খুলে কাজ শুরু করেছে।
বাংলাদেশে নৃবিজ্ঞান বা অ্যানথ্রোপলজি বিভাগ প্রথম যাত্রা শুরু করে ১৯৮৫ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে নৃবিজ্ঞান পড়ানো হয়। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় ও আইইউবি উল্লেখযোগ্য।
খবরওয়ালা/জেআর