খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক: সর্বশেষ নভেম্বরে ঢাকার বায়ুদূষণ ছিল আগের আট বছরের (২০১৭-২৪) মধ্যে সর্বোচ্চ। ডিসেম্বরেও বায়ুদূষণ ছিল আট বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। আর সদ্য শেষ হওয়া জানুয়ারি মাসে বায়ুদূষণ আগের আট বছরকে ছাড়িয়ে গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস) নামের একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান এ গবেষণা প্রতিবেদন তুলে ধরেন।
গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, সাধারণত বায়ুর মান শূন্য থেকে ৫০ থাকলে ‘ভালো’ বলা হয়। ৫১ থেকে ১০০ হলে ‘গ্রহণযোগ্য’। ১০১ থেকে ১৫০ ‘সংবেদনশীল ‘ক্ষতিকর’, ১৫১ থেকে ২০০ ‘অস্বাস্থ্যকর’, ২০১ থেকে ৩০০ ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০০–এর বেশি হলে তা হয় ‘দুর্যোগপূর্ণ’। অর্থাৎ যেসব স্থানে বায়ুর মান ৩০০-এর বেশি, সেখানে দূষণ পরিস্থিতি ভয়ানক রকম খারাপ। তবে গত ২২ জানুয়ারি সকালে আইকিউএয়ারের মানসূচকে ঢাকার সার্বিক বায়ুর মান ছিল ৫১৮। আর সারা দিনে বায়ুর মান ছিল ৬২২। সেদিনের বাতাসে যে ভয়াবহ দূষণ, তা সাম্প্রতিক অতীতে দেখা যায়নি বলে জানিয়েছেন পরিবেশবিশেষজ্ঞরা।
ক্যাপসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, গত আট বছরের জানুয়ারি মাসের গড় দূষণের মান ছিল ২৫৫ দশমিক ৪৮। গেল বছরের জানুয়ারিতে বায়ুর মান ছিল ৩০২,যা ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে বেড়ে দাঁড়ায় ৩১৮ তে। অর্থাৎ এ বছরের জানুয়ারি মাসের বায়ুদূষণ আগের আট বছরের জানুয়ারি মাসের গড় মানের তুলনায় শতকরা ২৪ দশমিক ৫২ ভাগ বেশি ছিল। তার মধ্যে এবারে জানুয়ারি মাসের ৩১ দিনের মধ্যে ১৬ দিনই ছিল ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ এবং ১৫ দিন ছিল ‘অতি অস্বাস্থ্যকর বা দুর্যোগপূর্ণ বায়ুমান।’
এ বিষয়ে ক্যাপসের চেয়ারম্যান আহমেদ কামরুজ্জামান মজুমদার একটি বেসরকারি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ঢাকার বায়ুর মানের ক্রমাগত অবনমন দেখছি। আর এবারের শুকনা মৌসুমে (নভেম্বর-মার্চ) দূষণের রেকর্ড পূর্বের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাচ্ছে। গত নভেম্বর, ডিসেম্বর ও জানুয়ারি—প্রতিটি মাসেই আগের আট বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ দূষণ দেখা গেছে। দূষণ থেকে নগরবাসীর কোনো মুক্তির দিশা দেখছি না।’
পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক (বায়ুমান ব্যবস্থাপনা) মো. জিয়াউল হক বলেন, ‘দূষণ নিয়ন্ত্রণ আসলে সময়সাপেক্ষ বিষয়। কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে; কিন্তু ফল আসতে অপেক্ষা করতে হবে।’