‘আমার ছেলে আত্মহত্যা করতে পারে না’, বললেন তাহসিফের বাবা

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছেন তাঁর বাবা কে এম এনায়েতুল করিম হেলাল। তাঁর অভিযোগ, ছেলেকে হত্যার পর মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। তাহসিফ আত্মহত্যা করতে পারেন—এমন ধারণা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তিনি।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গের সামনে ছেলের মরদেহ নিতে এসে গণমাধ্যমের কাছে এসব কথা বলেন হেলাল। ছেলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে চাওয়ার পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের প্রত্যাশা জানিয়েছেন তিনি।

তাহসিফের বাবা বলেন, তাঁর ছেলে কারও সঙ্গে শত্রুতায় জড়িত ছিলেন বলে তাঁদের জানা নেই। ব্যক্তিগত কোনো বিরোধের কথাও পরিবারের জানা নেই। তাই তাহসিফের মৃত্যু নিয়ে তাঁর মনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তিনি মনে করেন, ঘটনার পেছনে কী কারণ রয়েছে, তা তদন্তের মাধ্যমে বের করা প্রয়োজন।

ছেলের নিখোঁজ হওয়ার আগের ঘটনা সম্পর্কে হেলাল জানান, সর্বশেষ বন্ধু দ্বীপ তাহসিফকে ডেকেছিলেন। এরপর তাহসিফ নিখোঁজ হন। দ্বীপের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁদের মধ্যে বাসার কাছেই কথা হয়েছিল। তবে ওই সাক্ষাতের পর কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানাননি তাহসিফের বাবা।

তাহসিফের ব্যক্তিগত জীবন প্রসঙ্গেও কথা বলেন তিনি। হেলালের দাবি, তাঁর ছেলের কোনো প্রেমের সম্পর্ক ছিল না। একই সঙ্গে কারও সঙ্গে শত্রুতা থাকার বিষয়টিও তাঁদের জানা নেই। এসব তথ্যের ভিত্তিতে তিনি ছেলের মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে মেনে নিতে নারাজ। তাঁর অভিযোগ, তাহসিফকে হত্যার পর মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে, যাতে ঘটনার প্রমাণ আড়াল করা যায়।

তবে পরিবারের পক্ষ থেকে তোলা এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি। তাহসিফের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করতে হবে।

হেলাল জানিয়েছেন, ছেলের দাফন সম্পন্ন করার পর তাঁরা এ ঘটনায় মামলা করবেন। এরপর পুলিশ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে বলে আশা করছেন তিনি।

তাহসিফের মৃত্যুর আগে তাঁর সঙ্গে কারা যোগাযোগ করেছিলেন, বন্ধু দ্বীপের সঙ্গে সাক্ষাতের পর কী ঘটেছিল এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী—এসব প্রশ্নের উত্তর পরিবারের কাছে এখনো স্পষ্ট নয়। তদন্তে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য, পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক প্রমাণ পর্যালোচনা করা হলে ঘটনার বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

পরিবারের অভিযোগের পাশাপাশি তদন্তে পাওয়া তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই এ ঘটনায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হবে।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।