সংযুক্ত আরব আমিরাত ক্রিকেট ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। প্রথমবারের মতো দেশটি একসঙ্গে পাঁচজন ক্রিকেটারকে সরাসরি নাগরিকত্ব প্রদান করেছে, যা দেশটির ক্রীড়ানীতিতে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে। এই সিদ্ধান্তের ফলে সংশ্লিষ্ট ক্রিকেটাররা এখন আর দীর্ঘমেয়াদি আবাসন শর্ত পূরণের অপেক্ষায় না থেকে সরাসরি জাতীয় পরিচয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন।
নাগরিকত্ব পাওয়া ক্রিকেটাররা হলেন— খুজাইমা তানভীর, অজয় কুমার, অক্ষদীপ নাথ, হরপ্রীত সিং ভাটিয়া এবং আদিব উসমানী। এদের মধ্যে কয়েকজন ইতিমধ্যেই সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাতীয় দলের হয়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচে অংশগ্রহণ শুরু করেছেন।
বর্তমানে এই পাঁচ ক্রিকেটারসহ ১৭ সদস্যের দলটি নেপালে অনুষ্ঠিত একটি ত্রিদেশীয় সিরিজে অংশ নিচ্ছে। সিরিজটিতে দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ এবং একটি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। নাগরিকত্ব ঘোষণার পরপরই চারজন খেলোয়াড়— খুজাইমা তানভীর, অক্ষদীপ নাথ, হরপ্রীত সিং ভাটিয়া এবং আদিব উসমানী— নেপালের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাতের হয়ে অভিষেক করেন। অপর খেলোয়াড় অজয় কুমার দলে থাকলেও ওই ম্যাচে তিনি একাদশে সুযোগ পাননি।
নাগরিকত্ব পাওয়া ভারতীয় বংশোদ্ভূত অজয় কুমার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে আসার দিন থেকেই তিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশটির হয়ে খেলার স্বপ্ন দেখতেন। এখন সেই সুযোগ পাওয়ায় তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন দেশটির সরকার এবং দলের সহায়ক স্টাফদের প্রতি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্রিকেট কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দেশটির অবস্থান উন্নত করতে সহায়ক হবে। এর আগে সাধারণত বিদেশি খেলোয়াড়দের নির্দিষ্ট সময় বসবাসের পর জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্ত করা হতো। তবে এবার সরাসরি নাগরিকত্ব প্রদানের মাধ্যমে একটি ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
নাগরিকত্বপ্রাপ্ত ক্রিকেটারদের সংক্ষিপ্ত তথ্য
| নাম |
ভূমিকা |
বর্তমান দলীয় অবস্থান |
আন্তর্জাতিক অভিষেক |
| খুজাইমা তানভীর |
অলরাউন্ডার |
দলে অন্তর্ভুক্ত |
টি-টোয়েন্টি |
| অজয় কুমার |
ব্যাটসম্যান |
স্কোয়াডে রয়েছে |
এখনো অভিষেক হয়নি |
| অক্ষদীপ নাথ |
বোলার |
একাদশে অন্তর্ভুক্ত |
টি-টোয়েন্টি |
| হরপ্রীত সিং ভাটিয়া |
অলরাউন্ডার |
একাদশে অন্তর্ভুক্ত |
টি-টোয়েন্টি |
| আদিব উসমানী |
উইকেটরক্ষক |
একাদশে অন্তর্ভুক্ত |
টি-টোয়েন্টি |
এই উদ্যোগকে অনেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ক্রীড়া নীতির একটি নতুন দিগন্ত হিসেবে দেখছেন। ক্রিকেটের পাশাপাশি দেশটি ইতোমধ্যে ফুটবল, রাগবি ও জুডোর মতো খেলায় বিশেষ নীতি গ্রহণের মাধ্যমে প্রতিভা সংহত করার চেষ্টা করেছে। এবার ক্রিকেটে এই পদক্ষেপ দেশটির আন্তর্জাতিক মানের দল গঠনের আকাঙ্ক্ষাকে আরও জোরদার করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের নাগরিকত্ব নীতি ভবিষ্যতে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে বৈশ্বিক ক্রিকেট মানচিত্রে আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছে দিতে পারে।