সাভারের আশুলিয়ায় এক ব্যক্তিকে জিম্মি করে রাখার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে। এ সময় পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। তবে পুলিশের প্রতিরোধের মুখে সন্ত্রাসীরা ঘটনাস্থল থেকে কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা আটকের খবর পাওয়া যায়নি।
শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার শরীফ মার্কেটের পাঁচ তলায় এ ঘটনা ঘটে। গুলির শব্দে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে বলে জানা গেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জামগড়া এলাকার একটি ভবনে এক ব্যক্তিকে সন্ত্রাসীরা জিম্মি করে রেখেছে—এমন খবর পেয়ে আশুলিয়া থানা পুলিশের একটি দল সেখানে যায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে জিম্মিকারীরা গুলি ছুড়তে শুরু করে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। দুই পক্ষের মধ্যে গুলিবিনিময়ের একপর্যায়ে সন্ত্রাসীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়।
আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক রাশেদুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এক ব্যক্তিকে সন্ত্রাসীরা জিম্মি করে রেখেছে—এমন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। পুলিশের উপস্থিতি বুঝতে পেরে সন্ত্রাসীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে প্রায় ৭ থেকে ৮ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। পরে পুলিশও পাল্টা গুলি চালালে তারা পালিয়ে যায়।
পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, ঘটনার পরপরই অভিযুক্তদের আটকের জন্য আশপাশের এলাকায় অভিযান শুরু করা হয়েছে। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, জনবহুল এলাকায় একটি মার্কেট ভবনে এমন গুলির ঘটনায় আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে দিনের বেলায় পুলিশের ওপর গুলি চালানোর অভিযোগে ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় তৎপরতা চালাচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে জিম্মি করার অভিযোগের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে ওই ব্যক্তিকে শেষ পর্যন্ত উদ্ধার করা হয়েছে কি না এবং ঘটনার পেছনে কী কারণ ছিল, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনায় কোনো হতাহতের খবরও পাওয়া যায়নি।