খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
দেশে হাম পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ৬৯১ জন। শনিবার (২৫ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত এক দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে ছয় শিশুর মৃত্যু হলেও নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে গত ১৫ মার্চ থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭২১। একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আরও ৯৫ শিশু। সব মিলিয়ে এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গজনিত কারণে মোট ৮১৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৭৮ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর সংখ্যা ৬১৩। অর্থাৎ এক দিনে হাম ও সন্দেহজনক হাম মিলিয়ে আক্রান্ত বা উপসর্গযুক্ত রোগীর সংখ্যা ৬৯১ জন। এই সময়ে ৫৮১ শিশু ও রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ৪৭৯ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে শনিবার পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে সন্দেহজনক রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২২ হাজার ৭৬৩। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১৫ হাজার ২৭২। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ১ লাখ ৫ হাজার ২৯৮ রোগী। চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছে ১ লাখ ১ হাজার ৫৩৫ জন।
| সূচক | সংখ্যা |
|---|---|
| গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত | ৭৮ জন |
| গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গযুক্ত রোগী | ৬১৩ জন |
| গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে মোট আক্রান্ত | ৬৯১ জন |
| গত ২৪ ঘণ্টায় উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু | ৬ শিশু |
| গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যু | ০ |
| গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি | ৫৮১ জন |
| গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র | ৪৭৯ জন |
| ১৫ মার্চ থেকে মোট সন্দেহজনক হাম রোগী | ১,২২,৭৬৩ জন |
| ১৫ মার্চ থেকে নিশ্চিত হাম রোগী | ১৫,২৭২ জন |
| ১৫ মার্চ থেকে উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু | ৭২১ শিশু |
| ১৫ মার্চ থেকে নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যু | ৯৫ শিশু |
| ১৫ মার্চ থেকে হাম ও উপসর্গে মোট মৃত্যু | ৮১৬ শিশু |
| ১৫ মার্চ থেকে মোট হাসপাতালে ভর্তি | ১,০৫,২৯৮ জন |
| ১৫ মার্চ থেকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র | ১,০১,৫৩৫ জন |
পরিসংখ্যান বলছে, চলমান পরিস্থিতিতে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা এখনও উল্লেখযোগ্য। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়া রোগীর চেয়ে বেশি হওয়ায় চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর চাপ অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত মিলছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর ঘটনা জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা সাধারণত জ্বর, সর্দি, কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং পরে শরীরে র্যাশের মতো উপসর্গ সৃষ্টি করতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে রোগটি জটিল আকার ধারণ করলে নিউমোনিয়া, পানিশূন্যতা কিংবা অন্যান্য গুরুতর জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই জ্বর ও র্যাশসহ হামের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং আক্রান্ত শিশুকে অন্য শিশুদের থেকে আলাদা রাখার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হিসাব অনুযায়ী, গত কয়েক মাসে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা এবং মৃত্যুর পরিসংখ্যান পরিস্থিতিটির ব্যাপকতা তুলে ধরছে। একই সঙ্গে নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যু এবং উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর পরিসংখ্যান আলাদাভাবে প্রকাশ করা হচ্ছে, যাতে রোগটির প্রকৃত প্রভাব ও মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে শিশুদের দ্রুত শনাক্তকরণ, সময়মতো চিকিৎসা এবং সংক্রমণ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে হামের উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।